কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় ‘কালাপাহাড়’কে স্মরণ করেছেন কেন?
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'মানুষ' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম যারা পবিত্র উপাসনালয়ের দরজা বন্ধ করে, তাদের ধ্বংসের জন্য কালাপাহাড়কে স্মরণ করেছেন ।
- তাইতো কাজী নজরুল লিখেছেন, মোল্লা পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!' কোথা চেঙ্গিস, গজনি মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়? ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার!,
- 'কালাপাহাড়' ছিলেন বাংলা ও বিহারের শাসনকর্তা সুলায়মান খান কররানির এক দুর্ধর্ষ সেনাপতি ।
- তার আসল নাম রাজীবলোচন রায় ।
- তিনি ব্রাক্ষণ পরিবারের সন্তান ছিলেন এবং নিয়মিত বিষ্ণু পূজা করতেন ।
- পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন এবং প্রবল হিন্দু বিদ্বেষী হয়ে ওঠেন ।
- ১৫৬৮ সালে পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির ও বিগ্রাহের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন । আর তখন থেকেই তিনি 'কালাপাহাড়' নামে পরিচিত ।
Related Questions
∎‘Custom’ শব্দের পরিভাষা--প্রথা।
'অলৌকিক ইস্টিমার' বাংলাদেশী অন্যতম প্রথাবিরোধী কবি হুমায়ুন আজাদের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ১৯৭৩ সালে খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোং, ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
∎রামপ্রসাদ সেন:
রামপ্রসাদ সেন ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর এক বিশিষ্ট বাঙালি শাক্ত কবি ও সাধক। বাংলা ভাষায় দেবী কালীর উদ্দেশ্যে ভক্তিগীতি রচনার জন্য তিনি সমধিক পরিচিত; তাঁর রচিত "রামপ্রসাদী" গানগুলি আজও সমান জনপ্রিয়। রামপ্রসাদের জীবন সংক্রান্ত নানা বাস্তব ও অলৌকিক কিংবদন্তি বাংলার ঘরে ঘরে প্রবাদবাক্যের মতো প্রচারিত।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে নাথধর্মের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শেখ ফয়জল্লার একটি উল্লেখযােগ্য কাব্যগ্রন্থ ' গােরক্ষ বিজয় ' ।
- এ কাব্যের কাহিনিতে নাথবিশ্বাস - জাত যােগের মহিমা এবং নারী - ব্যভিচারপ্রধান সমাজচিত্র রূপায়িত হয়েছে ।
- শেখ ফয়জুল্লার আরাে কয়েকটি গ্রন্থ : গাজীবিজয় , সত্যপীর , রাগনামা , জয়নালের চৌতিশা ।
- উল্লেখ্য , বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে শৈবধর্ম মিশে নাথধর্মের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয় ।
বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী চর্যা শব্দের অর্থ– নিয়ম পালন; পালনীয় নিয়ম বা আচার।
-চর্যাচর্য অর্থ- আচরণীয় ও অনাচরণীয়; পালনীয় ও বর্জনীয়।
-চর্যাচর্যবিনিশ্চয় অর্থ – কী করা উচিত এবং কী করা অনুচিত।
-ধর্ম সম্বন্ধীয় বিধি নিষেধগুলোর নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় । অর্থাৎ- ধর্ম সাধনার ব্যাপারে কোনগুলো আচরণীয় এবং কোনগুলো আচরণীয় নয় তারই নির্দেশ চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।
-উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদের মূল নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।
বাংলা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা রয়েছে।
যথা :
- নাথ গীতিকা
- মৈমনসিংহ-গীতিকা
- পূর্ববঙ্গ গীতিকা
• পূর্ববঙ্গ গীতিকা নামে পরিচিত গীতিকাগুলোর কিছু পূর্ব ময়মনসিংহ থেকে এবং অবশিষ্ট গীতিকা নোয়াখালী, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে সংগৃহীত এ সকল গীতিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এর সংগ্রাহক— ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও চন্দ্রকুমার দে।
গীতিকাসমূহের নাম— ‘নিজাম ডাকাতের পালা’, ‘কাফন চোরা’, ‘ আয়না বিবি’, ‘কমলা রাণীর গান’, ‘চৌধুরীর লড়াই’, ‘ভেলুয়া’, ‘কমল সরদার’ ইত্যাদি।
‘ভেলুয়া’ পালায় নারী হৃদয়ের আর্তি প্রকাশ পেয়েছে।
জব সলুশন