এন্টনি ফিরিঙ্গি কী জাতীয় সাহিত্যের রচয়িতা?
দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্কের মাধ্যমে যে গান অনুষ্ঠিত হতো তাই কবিগান। যে কবিগান গাইতো তাকে কবিয়াল বলা হয়। এন্টনি ফিরিঙ্গি ছিলেন অন্যতম কবিয়াল এবং কবিগানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি জ্যাতিতে ইউরোপীয় (পর্তুগিজ) ছিলেন বলে ‘ফিরিঙ্গি আখ্যা পান। তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিগান:
- “আমি ভজন সাধন জানি নে মা / নিজে তো ফিরিঙ্গি, / যদি দয়া করে কৃপা কর / হে শিবে মাতঙ্গী।”
উল্লেখ্য, তাকে নিয়ে নির্মিত উত্তম কুমার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘এন্টনি ফিরিঙ্গি (১৯৬৭) এবং প্রসেনজিৎ অভিনীত চলচ্চিত্র 'জাতিস্মর' (২০১৪)।
Related Questions
আলাওল: আলাওল মধ্যযুগের একজন বাঙালি কবি। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর গতানুগতিক পরিসীমায় রোমান্টিক প্রণয়কাব্যধারা প্রবর্তনকারী হিসাবে মুসলমান কবিগণের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। আলাওল আরাকান রাজসভার অন্যতম কবি হিসাবে আবির্ভূত হলেও মধ্যযুগের সমগ্র বাঙালি কবির মধ্যে 'শিরোমণি আলাওল' রূপে শীর্ষস্থান অধিকারী। আরবি ফার্সি হিন্দি ও সংস্কৃত ভাষায় তিনি সুপণ্ডিত ছিলেন। ব্রজবুলি ও মঘী ভাষাও তার আয়ত্তে ছিল।
মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায় ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের অবসান ঘটে।
মীর মশাররফ হোসেন রচিত ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস 'বিষাদসিন্ধু' (১৮৮৫-৯১)।
- উপন্যাসটি মহররম পর্ব, উদ্ধার পর্ব, এজিদবধ পর্ব নামে তিন খণ্ডে বিভক্ত এবং এতে উপসংহারসহ ৬৩টি অধ্যায় রয়েছে।
- এটি ইতিহাস, উপন্যাস, সৃষ্টিধর্মী রচনা ও নাটক ইত্যাদি সাহিত্যের বিবিধ সংমিশ্রণে রোমান্টিক আবেগ মাখানো এক মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- হিজরি ৬১ সালের মহররম মাসে ইসলামের সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ (স.) এর দৌহিত্র ইমাম হাসান ও হোসেনের সাথে উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালার প্রান্তরে যুদ্ধ এর বিষয়বস্তু।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- 'রত্নবতী' (১৮৬৯),
- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০),
- 'তাহমিনা' (১৮৯৭)।
কল্লোল যুগের অন্যতম প্রধান কবি ও সাহিত্যিক জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘কবিতার কথা’ একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি শুরু হয়েছে একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে- “সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি।”
- ‘দিবারাত্রির কাব্য’, ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ ও ‘পথের পাঁচালী’ যথাক্রমে বাংলা উপন্যাসের তিন বন্দ্যোপাধ্যায়- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
নীর চৌধুরীর অনুবাদিত নাটক:
(1) কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯); জর্জ বার্নার্ড শ-র You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
(2) রূপার কৌটা (১৯৬৯); জন গলজ্ওয়র্দি-র The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
(3) মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০); উইলিয়াম শেক্স্পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ধর্মপ্রচারক শ্রীচৈতন্যদেব-এর প্রভাব অপরিসীম। তিনি নিজে কোনো সাহিত্য রচনা না করলেও তাঁর জীবন ও দর্শনকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে একটি সম্পূর্ণ যুগ ('চৈতন্য যুগ') এবং বিশাল বৈষ্ণব পদাবলী ও জীবনী সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে।
জব সলুশন