হরিনাথ মজুমদার সম্পাদিত পত্রিকার নাম–
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে।
- এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।
Related Questions
ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপত্র ছিল 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা। ১৮৩১ সালে দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। এটি ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র ছিল।
• 'মাসিক সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
রামরাম বসু (১৭৫৭ - ১৮১৩) বাংলা গদ্যসাহিত্যের আদি লেখকদের একজন। অষ্টাদশ শতাব্দীর ব্যক্তিত্ব। প্রথম দিকে তিনি ভারতে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য আসা মিশনারি পাদ্রীদের বাংলা শেখাতেন। পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে তিনি মুন্সি ও সংস্কৃত ভাষার সহকারি শিক্ষকের চাকরি পান। তাঁর রচিত রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত বাঙালির লেখা প্রথম বাংলা মৌলিক গদ্যগ্রন্থ ও ছাপাখানায় মুদ্রিত প্রথম বই। বইটি ১৮০১ সালের জুলাই মাসে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ১৮০১ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া তিনি বাঙালা ভাষায় কয়েকটি খ্রিস্টধর্ম বিষয়ক বই লেখেন, রামায়ণ ও মহাভারত সম্পাদনা করেন ও উইলিয়াম কেরিকে বাইবেল অনুবাদে সহায়তা করেন।
দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্কের মাধ্যমে যে গান অনুষ্ঠিত হতো তাই কবিগান। যে কবিগান গাইতো তাকে কবিয়াল বলা হয়। এন্টনি ফিরিঙ্গি ছিলেন অন্যতম কবিয়াল এবং কবিগানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি জ্যাতিতে ইউরোপীয় (পর্তুগিজ) ছিলেন বলে ‘ফিরিঙ্গি আখ্যা পান। তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিগান:
- “আমি ভজন সাধন জানি নে মা / নিজে তো ফিরিঙ্গি, / যদি দয়া করে কৃপা কর / হে শিবে মাতঙ্গী।”
উল্লেখ্য, তাকে নিয়ে নির্মিত উত্তম কুমার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘এন্টনি ফিরিঙ্গি (১৯৬৭) এবং প্রসেনজিৎ অভিনীত চলচ্চিত্র 'জাতিস্মর' (২০১৪)।
আলাওল: আলাওল মধ্যযুগের একজন বাঙালি কবি। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর গতানুগতিক পরিসীমায় রোমান্টিক প্রণয়কাব্যধারা প্রবর্তনকারী হিসাবে মুসলমান কবিগণের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। আলাওল আরাকান রাজসভার অন্যতম কবি হিসাবে আবির্ভূত হলেও মধ্যযুগের সমগ্র বাঙালি কবির মধ্যে 'শিরোমণি আলাওল' রূপে শীর্ষস্থান অধিকারী। আরবি ফার্সি হিন্দি ও সংস্কৃত ভাষায় তিনি সুপণ্ডিত ছিলেন। ব্রজবুলি ও মঘী ভাষাও তার আয়ত্তে ছিল।
মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায় ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের অবসান ঘটে।
মীর মশাররফ হোসেন রচিত ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস 'বিষাদসিন্ধু' (১৮৮৫-৯১)।
- উপন্যাসটি মহররম পর্ব, উদ্ধার পর্ব, এজিদবধ পর্ব নামে তিন খণ্ডে বিভক্ত এবং এতে উপসংহারসহ ৬৩টি অধ্যায় রয়েছে।
- এটি ইতিহাস, উপন্যাস, সৃষ্টিধর্মী রচনা ও নাটক ইত্যাদি সাহিত্যের বিবিধ সংমিশ্রণে রোমান্টিক আবেগ মাখানো এক মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- হিজরি ৬১ সালের মহররম মাসে ইসলামের সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ (স.) এর দৌহিত্র ইমাম হাসান ও হোসেনের সাথে উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালার প্রান্তরে যুদ্ধ এর বিষয়বস্তু।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- 'রত্নবতী' (১৮৬৯),
- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০),
- 'তাহমিনা' (১৮৯৭)।
জব সলুশন