টপিকঃ ধ্বনি ও বর্ণ
1.
'ক' থেকে 'ল' পর্যন্ত মোট ব্যঞ্জন বর্ণের সংখ্যা কত?
বাংলা বর্ণমালা ৫০ টি বর্ণ রয়েছে । তার মধ্যে স্বরবর্ণ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি । পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা যথাক্রমে ৩২ টি, ৮ টি ও ১০ টি। 'ক' থেকে 'ল' পর্যন্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ২৮টি।
2.
বাংলা ভাষায় কার কয়টি?
যেমন - আ - কার, ই - কার,ঈ - কার, উ - কার, ঊ - কার, ঋ - কার, এ - কার, ঐ - কার,ও - কার, ঔ - কার। স্বরবর্ণের কার চিহ্ন মোট ১০টি।
3.
কোন গুলো মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন হলো যেসব ব্যঞ্জন উচ্চারণে বেশি বায়ু (শ্বাস) নির্গত হয়।
বাংলা ভাষায় মোট ৩৩টি ব্যঞ্জনের মধ্যে ১৪টি মহাপ্রাণ।
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনগুলো হলো:
খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ, শ, ষ, স, হ
এখন বিকল্পগুলো যাচাই করা যাকঃ
১. প, ব, ত, দ → এরা সব অমহাপ্রাণ। ❌
২. দ, ফ, ভ, খ → শুধু ফ, ভ, খ মহাপ্রাণ; দ নয়। ❌
৩. ফ, ভ, খ, ধ → এরা সবাই মহাপ্রাণ। ✅
৪. ট, ব, খ, গ → খ মহাপ্রাণ, বাকিগুলো অমহাপ্রাণ। ❌
👉 সঠিক উত্তর: ফ, ভ, খ, ধ ✅
4.
ঠোঁট ও নাকের ছিদ্রের সাহায্যে উচ্চারিত হয় কোন ধ্বনিটি?
ঠোট ও নাকের ছিদ্রের সাহায্যে উচ্চারিত হয় 'ম' ধ্বনিটি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
6.
নিচের কোনটি 'মহাপ্রাণ' ধ্বনি?
১) অল্পপ্রাণ ধ্বনি — ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব, ড়
২) মহাপ্রাণ ধ্বনি — খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ, ঢ়
৩) অঘোষ ধ্বনি — ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ
৪) সঘোষ ধ্বনি — গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ, ড, ঢ, ণ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, ড়, ঢ়
৫) স্পর্শ ধ্বনি — ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম
৬) অর্ধস্বর — য, য়, ব (অন্তস্থ ব)
৭) তরল স্বর — র, ল
৮) কম্পিত ধ্বনি — র
৯) ঘৃষ্টধ্বনি — চ, ছ, জ, ঝ
১০) উষ্মধ্বনি — শ, ষ, স, হ
7.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা কত?
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত মৌলিক ধ্বনির সংখ্যা ৩৭টি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি ও মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি: অ, আ, ই, উ, অ্যা, এ, ও।
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, ঘ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, র, ল, শ, স, হ, ড়, ঢ়।
9.
পার্শ্বিক ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন (Lateral Consonant) হলো এমন একটি ব্যঞ্জনধ্বনি, যার উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু জিহ্বার এক বা দুই পাশ দিয়ে বের হয়।
- বাংলা ভাষায় "ল" ধ্বনি পার্শ্বিক ব্যঞ্জনের উদাহরণ।
উচ্চারণের সময়:
- জিহ্বার ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে।
- শ্বাসবায়ু জিহ্বার দুই পাশ দিয়ে মুখবিবর থেকে বের হয়।
10.
বাংলা বর্ণমালায় কয়টি অসংযুক্ত বর্ণ আছে?
অসংযুক্ত বর্ণ বলতে কী বোঝায়?
"অসংযুক্ত বর্ণ" বলতে সেই বর্ণগুলোকে বোঝায় যেগুলো এককভাবে উচ্চারিত হতে পারে এবং যাদের সঙ্গে অন্য কোনো বর্ণের মিলন ঘটেনি। অর্থাৎ, এগুলি মৌলিক বর্ণ। বাংলা বর্ণমালায় যুক্তবর্ণ (যেমন: ক্ষ, জ্ঞ) রয়েছে, যেগুলো একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে গঠিত; অসংযুক্ত বর্ণ বলতে সেই একক বা মৌলিক বর্ণগুলিকেই বোঝানো হয়।
বর্ণের বিভাজন:
১. স্বরবর্ণ (১১টি): স্বরবর্ণগুলো হলো সেই ধ্বনি, যা উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের কোথাও বাতাস বাধা পায় না এবং যা নিজে নিজে উচ্চারিত হতে পারে।
বাংলা বর্ণমালায় মোট ১১টি স্বরবর্ণ রয়েছে: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
২. ব্যঞ্জনবর্ণ (৩৯টি): ব্যঞ্জনবর্ণগুলো উচ্চারণের জন্য স্বরবর্ণের সাহায্যের প্রয়োজন হয় এবং উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের কোনো না কোনো স্থানে বাতাস বাধা পায়।
বাংলা বর্ণমালায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ।
সুতরাং, ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ মিলে বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি অসংযুক্ত বর্ণ রয়েছে।