টপিকঃ ধ্বনি ও বর্ণ
1.
তালব্য ও নাসিক্য বর্ণ কোনটি?
• নিলীন বর্ণ - অ
• স্পর্শবর্ণ বা বর্গীয় বর্ণ - ২৫ টি
• কণ্ঠ্য বর্ণ - ক, খ, গ, ঘ, ঙ
• তালব্য বর্ণ - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
• মূর্ধন্য বর্ণ - ট, ঠ, ড, ঢ, ণ
• দন্ত বর্ণ - ত, থ, দ, ধ, ন
• ওষ্ঠ্য বর্ণ - প, ফ, ব, ভ,ম
• নাসিক্য বর্ণ বা অনুনাসিক বর্ণ - ঙ, ঞ, ণ, ন, ম
• অন্তঃস্থ বর্ণ - য, র, ল
• শিশধ্বনি - শ, ষ, স
• কম্পনজাত ধ্বনি - র
• পার্শ্বিক বর্ণ - ল
• তাড়নজাত ধ্বনি - ড়, ঢ়
• খন্ডব্যঞ্জন - ৎ
2.
'লাঞ্ছনা' এই বানান ভাগ করলে হয়?
সঠিক উত্তরটি হলো: লা + ঞ + ছ + না (অপশন C)।
ব্যাখ্যা:
'লাঞ্ছনা' শব্দটির মাঝে 'ঞ্ছ' যুক্তবর্ণটি রয়েছে। এই যুক্তবর্ণটি ভাঙলে পাওয়া যায়:
ঞ্ছ = ঞ + ছ
তাই সঠিক বিশ্লেষণ হলো: লা + (ঞ + ছ) + না।
3.
বাংলা বর্ণমালায় কয়টি অসংযুক্ত বর্ণ আছে?
অসংযুক্ত বর্ণ বলতে কী বোঝায়?
"অসংযুক্ত বর্ণ" বলতে সেই বর্ণগুলোকে বোঝায় যেগুলো এককভাবে উচ্চারিত হতে পারে এবং যাদের সঙ্গে অন্য কোনো বর্ণের মিলন ঘটেনি। অর্থাৎ, এগুলি মৌলিক বর্ণ। বাংলা বর্ণমালায় যুক্তবর্ণ (যেমন: ক্ষ, জ্ঞ) রয়েছে, যেগুলো একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে গঠিত; অসংযুক্ত বর্ণ বলতে সেই একক বা মৌলিক বর্ণগুলিকেই বোঝানো হয়।
বর্ণের বিভাজন:
১. স্বরবর্ণ (১১টি): স্বরবর্ণগুলো হলো সেই ধ্বনি, যা উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের কোথাও বাতাস বাধা পায় না এবং যা নিজে নিজে উচ্চারিত হতে পারে।
বাংলা বর্ণমালায় মোট ১১টি স্বরবর্ণ রয়েছে: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
২. ব্যঞ্জনবর্ণ (৩৯টি): ব্যঞ্জনবর্ণগুলো উচ্চারণের জন্য স্বরবর্ণের সাহায্যের প্রয়োজন হয় এবং উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের কোনো না কোনো স্থানে বাতাস বাধা পায়।
বাংলা বর্ণমালায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ।
সুতরাং, ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ মিলে বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি অসংযুক্ত বর্ণ রয়েছে।
4.
'ঞ্চ' যুক্ত বর্ণটির স্বরূপ কী?
'ঞ্চ' যুক্তবর্ণটি [ঞ] এবং [চ]-এর সমন্বয়ে গঠিত
5.
'ক' বর্গের ধ্বনিসমূহের উচ্চারণ স্থান কোনটি?
ক-বর্গীয় ধ্বনি অর্থাৎ ক, খ, গ, ঘ, ঙ -এ ৫ টি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে।
6.
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য কয়টি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে?
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য মোট ১০টি সংখ্যাবর্ণ বা অঙ্ক রয়েছে। এগুলো হলো:০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯
7.
ক থেকে ঙ পর্যন্ত পাঁচটি ধ্বনি হচ্ছে-?
কন্ঠ ধ্বনি :- ক খ গ ঘ ঙ
ঙ নাসিক্য বর্ণেরও অন্তর্ভুক্ত
8.
কোনটি মূল স্বরধ্বনি নয়?
বাংলা ব্যাকরণে 'ঔ' মূল স্বরধ্বনি (বা মৌলিক স্বরধ্বনি) নয়। যেসব স্বরধ্বনিকে বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় মোট ৭টি মৌলিক স্বরধ্বনি রয়েছে : -অ আ ই উ এ ও অ্যা
9.
ধ্বনির লিখিত রূপকে কী বলা হয়?
ধ্বনির লিখিত রূপকে বর্ণ বলা হয়。মুখ থেকে নিঃসৃত আওয়াজ বা ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক বা চিহ্নকেই ব্যাকরণে বর্ণ (Letter) হিসেবে অভিহিত করা হয় l
বর্ণ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
স্বরবর্ণ: যে ধ্বনিগুলো অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে উচ্চারিত হয়, তাদের লিখিত সাংকেতিক চিহ্ন。
ব্যঞ্জনবর্ণ: যে ধ্বনিগুলো স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া স্পষ্টরূপে উচ্চারিত হতে পারে না, তাদের লিখিত রূপ。
10.
'তীক্ষ্ণ' শব্দের যুক্তব্যঞ্জনের সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি?
'তীক্ষ্ণ' শব্দটিতে ব্যবহৃত যুক্তব্যঞ্জনটি হলো 'ক্ষ্ণ'। এর সঠিক বিশ্লেষণ হলো: ক্ + ষ্ + ণ। ব্যাকরণ অনুযায়ী, 'ক্ষ' (ksha) তৈরি হয় 'ক্ + ষ্' দিয়ে। আর এর সাথে মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়ে 'ক্ষ্ণ' গঠিত হয়। ণত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে, 'ষ্'-এর পরে 'ন' থাকলে তা 'ণ' (মূর্ধন্য ণ) হয়। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর: ক+ষ্+ণ (বা ক্+ষ্+ণ)।