টপিকঃ বিসিএস প্রশ্ন ব্যাংক
1.
‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক নয় নিচের কোনটি?
সরল শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ 'গরল' বাদে অপশনের বাকি তিনটিই । তবে এরা ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয় । গরল হলো অমৃত শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ।
2.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
'দেশব্যাপী' শব্দের মধ্যেই 'সারা দেশ' অর্থটি থাকায় এর সাথে পুনরায় 'সারা' যোগ করলে বাহুল্য দোষ ঘটে। এছাড়া ‘উদ্যাপন’ বানানে বর্গীয় 'জ' নয়, 'দ-এ য-ফলা' (দ্যাপ) শুদ্ধ।
3.
'কুজ্ঝটিকা' এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
তৎসম ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে, ত্ ও দ্ এরপর জ্ ও ঝ্ থাকলে ত্ ও দ্ এর স্থানে জ্ হয়। যেমন: কুৎ+ঝটিকা (ত+ঝ = জ্ব) = কুজ্ঝটিকা।
4.
‘তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?’ এই প্রবাদটির রচয়িতা কে?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের (১৮৩৮ - ১৮৯৪) বিখ্যাত উপন্যাস 'কপালকুন্ডলা' (১৮৬৬) । উপন্যাসটিতে কিছু বিখ্যাত উক্তি আছে। যেমন - 'তুমি অধম' তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ? ইত্যাদি।
5.
‘কর্মে যার ক্লান্তি নেই’ ‒ এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ কী?
যাহার কোন কিছুতে ক্লান্তি নাই - অক্লান্ত/ ক্লান্তিহীন। কর্মে যাহার ক্লান্তি নাই - অক্লান্তকর্মী।
6.
কোন সন্ধিটি নিপাতনে সিদ্ধ?
এখানে, পর + পর = পরস্পর সন্ধিটি নিপাতনে সিদ্ধ। ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারে যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না, অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ।
7.
কোন বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত হয় ?
বাক্যে মাথা বলতে 'বুদ্ধি' কাজে লাগিয়ে কাজ করার কথা বুঝানো হয়েছে।
8.
বাংলা অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ ব্যাকরণের কোন অংশের অন্তর্ভুক্ত করা যায়?
9.
প্র ,পরা, অপ–
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে বলা হয় খাঁটি বাংলা উপসর্গ। বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা ২১ টি । উপসর্গগুলো হলো : অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড় , আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু,নি, পাতি, বি, ভর, রাম , স,সা,সু,হা । যেসব উপসর্গ সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। সংস্কৃত উপসর্গ প্রধানত ২০ টি । যথা: প্র, পরা, অপ, সম্, নি, অনু, অব, নির , দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। আরবি, ফারসি , ইংরেজি , হিন্দি - এসব ভাষার বহু শব্দ বহুকাল ধরে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আছে। এসব উপসর্গকে বিদেশি উপসর্গ নামে অভিহিত করা হয়। বিদেশি উপসর্গের মধ্যে কতকগুলো ফারসি ও ইংরেজি উপসর্গ বাংলায় বহুল প্রচিলত।
10.
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলো 'ধ্বনি' । এটা ভাষার মৌলিক অংশ । ধ্বনির লিখিত রুপ হলো 'বর্ণ' । শব্দের অংশ হলো অক্ষর। বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক বা অংশকে শব্দ বলে।
11.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
স্বায়ত্তশাসন (বানান: দন্ত্য স-ব-ফলা-আ-উ-অন্তঃস্থ-ত-ত-য়-আ-দন্ত্য-স-ন) হলো শুদ্ধ বানান।স্ব + আয়ত্ত + শাসন = স্বায়ত্তশাসন।
12.
‘আগুন’- এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
'আগুন' - এর সমার্থক শব্দ: অনল , পাবক, দহন, সর্বভুক , সর্বশুচি , বহ্নি , অগ্নি হুতাশন। অন্যদিকে ভাতি, অংশু ও জ্যোতি হলো 'কিরণ' শব্দের সমার্থক শব্দ।
13.
বড় > বড্ড - এটি কোন ধরনের পরিবর্তন?
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, তাকে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা বলে।
- যেমন: বড় > বড্ড, পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল।
14.
ণত্ব বিধান সাধারনত কোন শব্দে প্রযোজ্য?
বাংলায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধণ্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
15.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
শশব্যস্ত' হলো একটি উপমান কর্মধারয় সমাস।ব্যাসবাক্য: শশকের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত l খরগোশ যেমন সর্বদা অত্যন্ত সতর্ক ও দ্রুত বা অস্থিরভাবে ছোটে (ব্যস্ত থাকে), মানুষের সেই স্বভাবজাত দ্রুততা বা ব্যস্ততাকে খরগোশের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এখানে 'শশক' হলো উপমান (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে) এবং 'ব্যস্ত' হলো সাধারণ ধর্ম
16.
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ কয়টি?
বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০ টি বর্ণ আছে। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি। স্বরধ্বনি দ্যোতক সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় স্বরবর্ণ। যেমন - অ, আ, ই ইত্যাদি। অন্যদিকে ব্যঞ্জনধ্বনি দ্যোতক সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ। যেমন - ক, খ, গ ইত্যাদি । উল্লেখ্য, বাংলা বর্ণমালার ৫০ টি বর্ণের মধ্যে ৩২ টিতে পূর্ণমাত্রা, ৮ টিতে অর্ধমাত্রা ও ১০ টিতে কোনো মাত্রা ব্যবহৃত হয় না।
17.
‘কৃষ্টি’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়
কৃষ্টি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: কৃষ্ + তি ; অনুরূপভাবে, সৃজ + তি = সৃষ্টি, দৃশ + তি = দৃষ্টি।
18.
সমার্থক শব্দগুচ্ছ শনাক্ত করুন-
কোনো শব্দের সম অর্থপূর্ণ অন্য শব্দই হলো প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ। এরুপ 'নদী'র সমার্থক শব্দ স্রোতস্বিনী, তটিনী, তরঙ্গিনী, প্রবাহিনী শৈবলিনী, কল্লোলিনী, গাঙ।
19.
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে-
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দের মধ্যে অন্য স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। উদাহরণ: মুলা > মুলো।
20.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
'দোষী - নির্দোষী' এটি অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ হবে দোষী - নির্দোষ ।
21.
‘উভয়কুল রক্ষা’ অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন কোনটি ?
কারো পৌষমাস কারও সর্বনাশ’- কারও সুদিন কারও দুর্দিন।
‘চাল না চুলো, ঢেকী না কুলো’- নিতান্ত গরীব।
সাপও মরে,লাঠিও না ভাঙ্গে অর্থ হলো-"উভয়কুল রক্ষা"
বোঝার উপর শাকের আঁটি অর্থ হলো-- "" অতিরিক্তের অতিরিক্ত""
22.
“সদ্যোজাত” শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
সদ্যঃ + জাত + সদ্যোজাত । অ - কারের পরস্থি স্ - জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্প প্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্যধ্বনি কিংবা অন্তস্থ ব,র,ল,হ থাকলে অ - কার ও স - জাত বিসর্গ উভয় স্থলে ও - কার হয়। যেমন - তিরঃ + ধান = তিরোধান , মনঃ + রম = মনোরম, তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
23.
Transparency শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
Transparency' একটি ইংরেজি শব্দ, যার অর্থ কোনো কিছুর মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতা। প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো কাজে বা সিদ্ধান্তে কোনো কিছু গোপন না রাখা। এর সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো 'স্বচ্ছতা'।
24.
যোগরুঢ় শব্দ কোনটি?
শাখামৃগ একটি যোগরূঢ় শব্দ। 'শাখা' (ডাল) এবং 'মৃগ' (হরিণ বা পশু) এই দুটি শব্দের আক্ষরিক অর্থ দিয়ে এই শব্দটি গঠিত হলেও, এর প্রচলিত অর্থ হলো 'বানর'। অর্থাৎ, এখানে শব্দটির আক্ষরিক অর্থকে ছাপিয়ে একটি বিশেষ অর্থে (বানর) এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
25.
বাংলা ভাষা এই শব্দ দুটি গ্রহণ করেছে চীনা ভাষা হতে-
চা, চিনি , লিচু, এলাচি, তুফান, সাম্পান, লবি ইত্যাদি শব্দ চীনা ভাষা হতে বাংলা ভাষায় এসেছে। অন্যদিকে খদ্দর ও হরতাল গুজরাটি শব্দ। চাকু ও চাকর তুর্কি শব্দ। রিকশা ও রেস্তোরাঁ যথাক্রমে - জাপানি ও ফরাসি শব্দ।
26.
“এ যে আমাদের চেনা লোক”-বাক্যে ‘চেনা’ কোন পদ?
যে পদ দ্বারা বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। এ বাক্যে ‘চেনা’ শব্দটি দ্বারা লোকটির পরিচিতি বা অবস্থা প্রকাশ করছে, তাই এটি বিশেষণ পদ।
27.
‘চাঁদের হাট’ অর্থ কী?
চাঁদের হাট অর্থ প্রিয়জনদের সমাগম। অবসর জীবনে শরীফ সাহেব কৃতি সন্তানদের নিযে চাঁদের হাট বসিয়েছেন।
28.
কোনটি অপ্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
বহুবচন প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে কিছু শব্দ অপ্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
অপ্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ হলো:
গ্রাম: অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে এটি ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, গুণগ্রাম বলতে গুণাবলি বোঝায়।
অন্যান্য শব্দের ব্যবহার:
গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ: এগুলো উন্নত প্রাণিবাচক (মনুষ্য) শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, সুধীবৃন্দ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।
কুল, সকল, সব, সমূহ: এগুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় ধরনের শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কবিকুল, পক্ষীকুল ইত্যাদি।
29.
কোনটি তদ্ভব শব্দ ?
"চাঁদ" শব্দটি একটি তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব শব্দ হলো সেই সব শব্দ যা সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে। "চাঁদ" শব্দটি সংস্কৃত "চন্দ্র" শব্দ থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা "চাঁদ" হয়েছে।
গগন): "গগন" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "গগন" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সূর্য): "সূর্য" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "সূর্য" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
নক্ষত্র): "নক্ষত্র" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "নক্ষত্র" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
30.
‘উদ্বাসন’ শব্দের অর্থ কী?
যখন কোনও জাতি বা জনগোষ্ঠী তাদের স্বদেশভূমি থেকে বিশ্বের অন্যত্র বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেই ব্যাপারটিকে বিক্ষিপ্ত উদ্বাসন (ইংরেজি: Diaspora) বলা হয়। সাধারণত বিক্ষিপ্ত উদ্বাসন পরিভাষাটি দ্বারা কোন জনগোষ্ঠীর তাদের স্বভূমি থেকে অনৈচ্ছিকভাবে ছড়িয়ে পড়াকে বোঝানো হয়।
31.
কাঁচি কোন ধরনের শব্দ?
তুর্কি শব্দ সহজে মনে রাখার কৌশল নিচের বাক্য গুলো মনে রাখুনঃ
১। সুলতান খাঁর বোচকা বাবুর্চিকে দেখে উজবুক মনে হলেও , কোর্মাটা বেশ বানায় । (সুলতান, খাঁ, বোচকা, বাবুর্চি, উজবুক , কোর্মা)
২। ছুরি , কাচি যতই চকমক করুক, বন্ধুক বারুদের তোপের সামনে কি আর টেকে ? কিছু লাশ পরতেই কুলিরা কাবু হয়ে পড়ল । (ছুরি , কাচি , চকমক ,বন্দুক, বারুদ, তোপ, লাশ , কুলি, কাবু )
৩। তোশক চুরির দায়ে ছেমড়া চাকরের বাবাকে কোর্তা পরা দারোগা ধরে নিয়ে গেলেও বেগম সাহেব পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনলেন । (তোশক , ছেমড়া, চাকর, বাবা, কোর্তা,দারোগা ,বেগম,মুচলেকা)
32.
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা-
মুহম্মদ আবদুল হাই শিষ্ট কথ্য বাংলা ভাষার ধ্বনি এবং ধ্বনিতত্ত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণে ব্রতী হন এবং তাঁর গবেষণালব্ধ ফল ‘ধ্বনি বিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ (১৯৬৫) নামক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।
* মুহম্মদ আবদুল হাই-এর এই গ্রন্থটি অধ্যাবধি বাংলা ভাষায় রচিত বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব পর্যালোচনার সর্বাধিক গভীর বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ।
* আবদুল হাই এ গ্রন্থে বাংলা স্বরধ্বনির সংখ্যা, দ্বিস্বর এবং অর্ধস্বরের গঠন, ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোর ধ্বনিতাত্ত্বিক পরিচয়, বাক্প্রবাহে ধ্বনির রূপ, সন্ধি ও সামগ্রিকীভবন, ধ্বনিগুণ এবং স্বরতরঙ্গ বিষয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন।
বাংলা ভাষা সংক্রান্ত বই:
• বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত - ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
• ভাষার ইতিবৃত্ত - সুকুমার সেন
• বাংলা ভাষার সংস্কার, মুসলিম বাঙলা সাহিত্য, মনীষা মঞ্জুসা - মুহাম্মদ এনামুল হক
• সাহিত্য ও সংস্কৃতি, ভাষা ও সাহিত্য, ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব - মুহাম্মদ আব্দুল হাই।
33.
'লবণ’ শব্দের তদ্ভব রূপ কোনটি?
'লবণ’ শব্দের তদ্ভব রূপ 'নুন’।
‘লবণ’-এর বিশেষণ ‘লবণাক্ত’।
34.
‘Notification’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
Notification' এর বাংলা পরিভাষা ‘প্রজ্ঞাপন'।
35.
কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
গঠনগত দিক থেকে বাংলা শব্দাবলী দুভাগে বিভক্ত মৌলিক ও সাধিত। যে শব্দকে আর কোনোভাবে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন - মা, লাল, তিন হাত, পা, গোলাপ ইত্যাদি । যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, তাই সাধিত শব্দ। যেমন - দয়ালু, পানসা, ফুলেল, হাতল, জমিদার ইত্যাদি।
36.
‘Hand out’- এর শুদ্ধ বাংলা পরিভাষা হলো:
• হস্তপত্র এর পরিভাষা manuscript
• তথ্যপত্র এর পরিভাষা information sheet
• প্রচারপত্র এর পরিভাষা brochure
• জ্ঞাপনপত্র এর পরিভাষা Hand out
37.
রাবণের চিতা’ বাগধারা টির অর্থ কী?
রাবণের চিতা - বাগধারার অর্থ - চির অশান্তি।
অনিষ্টে ইষ্ট লাভ - আশায় নৈরাশা।
38.
মগরুড়ের ছানা- কথাটির অর্থ-
'রামগরুড়ের ছানা' কথাটির একটি বিশেষ অর্থ আছে যা সাধারণত 'গোমড়ামুখো লোক' অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত একটি অভিব্যক্তি যা মূর্খ বা বোকা মানুষের প্রতি ইঙ্গিত করে।
এটি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করা হয় যেন বোঝাতে চায় যে কেউ খুব গম্ভীর বা হাস্যকরভাবে আচরণ করছে। তাই, সঠিক উত্তর 'গোমড়ামুখো লোক'।
39.
'আফতাব' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
'আফতাব' একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ সূর্য। 'অর্ক' শব্দটিও সূর্যের একটি সমার্থক শব্দ। 'অর্ণব' ও 'জলধি' অর্থ সমুদ্র।
40.
ক্রিয়াপদ‒
ক্রিয়া পদ বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ। ক্রিয়া পদ ভিন্ন কোন মনোভাব সম্পন্নরূপে প্রকাশ করা যায় না। তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়া পদ উহ্য থাকতে পারে যেমন :
ইনি আমার ভাই=ইনি আমার ভাই (হন)
আজ প্রচন্ড গরম= আজ প্রচন্ড গরম (অনুভূত হচ্ছে)
তোমার মা কেমন? =তোমার মা কেমন (আছেন)?
41.
রঞ্জন চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রক্তকরবী" নাটকে রঞ্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সে এই নাটকের মূল চরিত্রগুলির একজন, যার সাথে নন্দিনী এবং অন্যান্য চরিত্রদের সম্পর্ক রয়েছে।
অপশন ক) বিসর্জন: "বিসর্জন" নাটকের মূল চরিত্র অপর্ণা, গোবিন্দ মানিক্য, রঘুপতি ইত্যাদি। রঞ্জন এই নাটকের কোনো চরিত্র নয়।
অপশন গ) মুক্তধারা: "মুক্তধারা" নাটকের প্রধান চরিত্র হলেন উৎপল, সুকুমারেরা। রঞ্জন এখানে কোনো পরিচিত চরিত্র নয়।
অপশন ঘ) ডাকঘর: "ডাকঘর" নাটকের মূল চরিত্র অমল। রঞ্জন এই নাটকের কোনো চরিত্র নয়।
42.
কোন শব্দে ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
√পঠ ধাতুর সাথে সংস্কৃত কৃৎ এর ‘ণক’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে পাঠক (√পঠ+ণক = √পঠ+অক) শব্দটি গঠিত।
তদ্ধিত প্রত্যয় গঠিত শব্দ:
- ঠগ্+ঈ = ঠগী;
- পানি-পানসা > পানসে;
- সেলাম+ঈ (ই) = সেলামী (সেলামি)।
43.
.“যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম”– এটি কোন জাতীয় বাক্য?
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যে সাথে এক বা একাধিক আশ্রিতবাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয় ,তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে ।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি , যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও ,যেহেতু-সেহেতু ,যত-তত ,যেমন-তেমন ,যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষে যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে ,তাকে জটিল বাক্য বলে।
সাধারণ মিশ্র বাক্য যেমন হয়ঃ
১: মিশ্র বাক্যে একের বেশি স্বাধীন খণ্ড বাক্য থাকবে।
২: মিশ্র বাক্যে অন্তত একটি অধীন খণ্ডবাক্য থাকবে।
৩: জটিল+জটিল, জটিল+সরল, জটিল+যৌগিক এই তিন ভাবে (অথবা উল্টো দিক থেকে) মিশ্র বাক্য হতে পারে।
এ ছাড়া যৌগিক+সরল/সরল+যৌগিক বাক্যেও মিশ্র বাক্য হতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটি বাক্যকে অপ্রধান খণ্ডবাক্যের ভূমিকা পালন করতে হবে।
যেমন: রাম এসেছিল এবং শ্যাম এসেছিল, সে কথা তারা আমাকে জানায়নি। (যৌগিক+সরল)
এখানে যৌগিক বাক্যটি একটি অপ্রধান খণ্ডবাক্যের মত কাজ করছে।
44.
নিচের কোন শব্দে ণত্ব বিধি অনুসারে ‘ণ’-এর ব্যবহার হয়েছে?
'কল্যাণ' 'নিক্কণ' ও 'বিপণি' - শব্দগুলো 'ণ' - এর স্বভাবগত নিয়মে গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে প্র, পরি, নির - এ তিনটি উপসর্গের পর 'প' - বর্গের ৫ টি (প, ফ,ব,ভ,ম) বর্ণ থাকলে তারপরে 'ন' ধ্বনি থাকলে তা মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
45.
‘তাপ’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ-
তাপ শব্দের অর্থ - উত্তাপ, ভাপ, গরম, উষ্ণ, উষ্মতা, উষ্ণতা, আঁচ ইত্যাদি।
শৈত্য শব্দের অর্থ - শীতলতা, ঠান্ডা অবস্থা বা শীতের ভাব (শীত + ষ্ণ্য = শৈত্য)।
তাই তাপ শব্দের বিপরীত শব্দ শৈত্য।
46.
ধাতুর পর কোন প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য বুঝায়?
কৃৎ-প্রত্যয়ের (ধাতুর পর) ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আও’ প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন:
- √পাকডু+আও =পাকড়াও;
- √চড়+আও – চড়াও;
- √বাঁচ+আও=বাঁচাও ৷
কৃৎ-প্রত্যয়ের ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য শব্দ গঠনে ‘আই’ প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন:
- √সিল+আই = সিলাই;
= √যাচ+আই = যাচাই;
- √চড়ু+আই চড়াই।
উল্লেখ্য, তদ্ধিত প্রত্যয়ের ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে আই-প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন:
- বড়+আই = বড়াই;
- পুষ্ট+আই = পোষ্টাই ।
47.
‘এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো’ এ বাক্য কোন ধরনের?
‘এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো এ বাক্য হলো নির্দেশাত্নক। যে বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয় তাকে বর্ণনাত্মক বাক্য বলে। একে নির্দেশমূলক, নির্দেশসূচক নির্দেশাত্নক, বিবৃতিমূলক বাক্যও বলা হয়। যেমনঃ সূর্য পূর্বদিকে ওঠে। সে রোজ এখানে আসে।
48.
অম্বর এর প্রতিশব্দ কোনটি?
'অম্বর' শব্দটির অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় প্রতিশব্দ হলো আকাশ
49.
‘কদাকার’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন ,আব, ইতি, উন (ঊনা) , কদ, কু,নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু,হা এগুলো দেশি উপসর্গ। 'কদাকার' শব্দটি দেশি 'কদ' উপসর্গযোগে গঠিত।
50.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতায় কবির উপলব্ধি হচ্ছে
১৮৮৩ সালে প্রভাতসংগীত কাব্যটির প্রকাশ। এ কাব্যগ্রন্থের কবিতায় হচ্ছে ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’। শৈশব থেকে কবি হওয়ার বাসনা ধরে সংশোধিত হতে হতে তিনি প্রভাতসংগীতের কাছে পৌঁছে যান। এ কাব্যগ্রন্থের কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতাটি তার কাব্যচর্চার সার্থক সৃষ্টি বলেই তিনি মতামত ব্যক্ত করে গেছেন। কবিতাটিতে বাইরের জিনিসকে অন্তরে এবং তার রসায়নই যে এই কবিতার মূল নির্যাস তা তার চিত্তের উচ্ছ্বাস থেকেই বোঝা যায়। এ কবিতায় কবি যেন গ্রহীতা আর প্রকৃতি হচ্ছে দাতা। প্রকৃতির অকৃপণ দান কবি আনন্দচিত্তে গ্রহণ করেছেন। ১৮৮৩ সাল কবির জীবনে দুটি কারণে স্মরণীয় একটি ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতার গ্রন্থভুক্তি এবং প্রকাশ অপরটি তার বিয়ে। ১৮৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বাইশ বছর আট মাস বয়সে কবি রবীন্দ্রনাথের বিয়ে হয়।