টপিকঃ প্রাইমারি প্রশ্ন ব্যাংক

বিষয়

বাংলা ব্যাকরণ

Free: 50 Qs

1.

”আশীবিষ”-এর অর্থ কি?

ক) ভুজঙ্গ
খ) মার্তন্ডু
গ) হুতাশন
ঘ) মাতঙ্গ
Note :

আশীবিষ” শব্দের অর্থ হলো সাপের বিষ।
বাংলা ভাষায় আশী মানে সাপ, আর বিষ মানে বিষ/জহর। তাই “আশীবিষ” বলতে বোঝায় সাপের বিষ, যা ভুজঙ্গ (সাপ) সম্পর্কিত।

উত্তর: ভুজঙ্গ (A)

2.

”না” কোন জাতীয় শব্দ?

ক) সর্বনাম
খ) অব্যয়
গ) ক্রিয়া
ঘ) বিশেষণ
Note :

বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী 'না' হলো মূলত একটি অব্যয় পদ।বাক্যে ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এটি সাধারণত দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:না-বোধক অব্যয়: অস্বীকৃতি বা নিষেধ বোঝাতে (যেমন: আমি যাব না)।প্রশ্নবোধক অব্যয়: বাক্যের শেষে বসে প্রশ্ন করতে (যেমন: তুমি খাবে না

3.

বিশুদ্ধ বানান কোনটি?

ক) দূষণীয়
খ) দোষণীয়
গ) দূষণিয়া
ঘ) দোষণিয়
Note :

শুদ্ধ বানান টি হল দূষণীয়

4.

”অক্ষির সমীপে”র সংক্ষেপ হলো--

ক) সমক্ষ
খ) পরোক্ষ
গ) প্রত্যেক্ষ
ঘ) নিরপেক্ষ
Note :

”অক্ষির সমীপে” - এর সংক্ষেপণ হলো - - সমক্ষ ।

অক্ষির অগোচর - পরোক্ষ, অক্ষির সম্মুখে - প্রত্যক্ষ, এবং অক্ষির সমীপে - এর সংক্ষেপণ হলো সক্ষম ।

5.

কোন বাক্যটি শুদ্ধ?

ক) তাহার জীবন সংশয়পূর্ণ
খ) তাহার জীবন সংশময়
গ) তাহার জীবন সংশয়ভরা
ঘ) তাহার জীবন সংশয়াপূর্ণ
Note :

 সঠিক বাক্য হবে "তাহার জীবন সংশয়পূর্ণ"

6.

'অকালে যাকে জাগরণ করা হয়' -- এক কথায় ---

ক) অকুতোভয়
খ) অনন্যসাধারণ
গ) অঘটন ঘটন পটিয়সী
ঘ) অকালবোধন
Note :

অকালে যাকে জাগরণ করা হয় - অকালবোধন।

ভয় নেই যার - অকুতোভয়।

যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায় না এমন - অনন্যসাধারণ।

অসম্ভব বিষয় সম্ভব করতে সমর্থ - অঘটন ঘটন পটিয়সী।

সঠিক উত্তর: অকালবোধন।

7.

"বুলবুলিতে" ধান খেয়েছে ---বাক্য নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক) কর্তৃকারকে পঞ্চমী
খ) কর্তৃকারকে সপ্তমী
গ) কর্মকারকে পঞ্চমী
ঘ) কর্মকারকে সপ্তমী
Note :

ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্তৃকারক। বাক্যটিতে 'বুলবুলি' কর্তা হিসেবে খাওয়া কাজটি সম্পাদন করা তা কর্তৃকারক এবং শব্দের শেষে 'তে' থাকায় তা সপ্তমী বিভক্তি।

8.

”সমাস” এর অর্থ-

ক) সংযোজন
খ) বিশ্লেষণ
গ) সংশ্লেষণ
ঘ) সংক্ষেপন
Note :

সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ।

সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, সমর্থন, সংগ্রহ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ ।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের একটি পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। বাংলা ভাষায় যে সকল প্রক্রিয়ায় নতুন পদ বা শব্দ তৈরি হয় সমাস তার একটি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।

যেমন: দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম, পীত অম্বর যার = পীতাম্বর (শ্রীকৃষ্ণ)।

9.

নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?,.

ক) শারীরিক
খ) শারিরীক
গ) শারিরিক
ঘ) শারীরীক
Note :

সঠিক বানান - শারীরিক। শারীরিক শব্দের অর্থ - শারীর, বাস্তব, কায়িক, প্রাকৃত, শরীরগত ইত্যাদি। প্রদত্ত শব্দটি একটি বিশেষণ পদ।

10.

ব্যাকরণের কাজ কী?

ক) ভালো বক্তা তৈরি করা
খ) নতুন ভাষা তৈরি করা
গ) দ্রুত পড়া ও লেখা শেখানো
ঘ) ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা
Note :

ভাষাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ব্যাকরণ বলতে সাধারণত ভাষার কাঠামোর, বিশেষ করে শব্দ ও বাক্যের কাঠামোর, গবেষণাকে বোঝায়। এ অর্থে ব্যাকরণ হল কোন ভাষার রূপমূলতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচনা।

11.

মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে- এখানে বৃষ্টি শব্দটি কোন কর্তা?

ক) ব্যাতিহার কর্তা
খ) মুখ্য কর্তা
গ) প্রযোজক কর্তা
ঘ) প্রযোজ্য কর্তা
Note :

- যে কর্তা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে থাকে, তাকে মুখ্য কর্তা বলে।
- যেমন: মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। প্রদত্ত বাক্যে ক্রিয়া 'পড়া' (পড়ছে) কাজটি বৃষ্টি নিজেই সম্পাদন করছে। মেয়েরা ফুল তোলে। এ বাক্যে ক্রিয়া 'তোলা' (তোলে) কাজটি মেয়েরা নিজেরাই সম্পাদন করছে।
- সুতরাং, বাক্যে বৃষ্টি ও মেয়েরা মুখ্য কর্তা।

12.

কোন বানানটি শুদ্ধ?

ক) মরিচিকা
খ) মরিচীকা
গ) মরীচিকা
ঘ) মরীচীকা
Note :

শুদ্ধ বানান হলো মরীচিকা

13.

'যা দমন করা যায় না' -এক কথায় হবে -----

ক) দুর্দমনীয়
খ) দুর্দম
গ) অদম্য
ঘ) অসম্ভব
Note :

'যা দমন করা যায় না'— অর্থাৎ যাকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় — এর এক কথায় প্রকাশ অদম্য

14.

শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =উচ্ছৃঙ্খল‘ কোন সমাস?

ক) দ্বন্দ্ব
খ) তত্‍পুরুষ
গ) বহুব্রীহি
ঘ) অব্যয়ীভাব
Note :

"শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত" = "উচ্ছৃঙ্খল" হলো অব্যয়ীভাব সমাস

15.

ক্রিয়া বা ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলে ---

ক) ধাতু প্রত্যয়
খ) শব্দ প্রত্যয়
গ) কৃৎ প্রত্যয়
ঘ) তদ্ধিত প্রত্যয়
Note :

ক্রিয়া বা ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলে - - - কৃৎ প্রত্যয়।

ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যেই প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।

যেমন, উপরের উদাহরণে, ‘√পড়’ - এর সঙ্গে ‍যুক্ত হওয়া ‘উয়া’, ‘√নাচ’ - এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া ‘উনে’ এবং ‘√জিত’ - এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া ‘আ’ কৃৎ প্রত্যয়।

16.

কোনটি “অধিত্যকা” শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ?

ক) অন্ধকার
খ) তিরোভাব
গ) হালকা
ঘ) উপত্যকা
Note :

অধিত্যকা (বিশেষ্য) - পর্বতের সমতল উপরিভাগ বা সানুদেশ।
উপত্যকা (বিশেষ্য) - দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সমতল বা নিম্নভূমি।
‘অধিত্যকা’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ‘উপত্যকা’

17.

সমার্থক শব্দগুচ্ছ শনাক্ত করুন-

ক) দীঘি; নদী; প্রণালী
খ) শৈবলিনী; তরঙ্গিনী; সরিৎ
গ) গাঙ; তটিনী; অর্ণব
ঘ) স্রোতস্বিনী; নির্ঝরিণী; সিন্ধু
Note :

শৈবলিনী; তরঙ্গিনী ও সরিৎ - এই তিনটি শব্দই 'নদী' শব্দের সমার্থক। অন্য অপশনগুলোতে ভিন্নধর্মী শব্দ (যেমন অর্ণব মানে সমুদ্র) রয়েছে।

18.

সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না- এখানে মেঘে কোন কারক?

ক) কর্ম কারক
খ) অপাদান কারক
গ) সম্প্রদান কারক
ঘ) অধিকরণ কারক
Note :

সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না -  এখানে মেঘে অপাদান কারক।

যা থেকে কিছু বিচ্যুত,  গৃহীত,  জাত,  বিরত,  আরম্ভ,  দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাদের অপাদান কারক বলে।  যেমন সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না এখানে 'মেঘে' হল অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

19.

আমার জ্বর জ্বর লাগছে' এটি কোন ধরনের বাক্য?

ক) মিশ্র
খ) যৌগিক
গ) দ্বিরুক্ত
ঘ) সরল
Note :

- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যেমন: আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
- প্রদত্ত উদাহরণটিতে একটি কর্তা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া 'লাগছে' বিদ্যমান।
- সুতরাং, এটি সরল বাক্য।

অন্যদিকে,
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
- যেমন: আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
- প্রদত্ত উদাহরণে 'জ্বর জ্বর' দ্বিরুক্তি দ্বারা ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়েছে।

20.

”মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ” -বাক্যে ”মরি মরি” কোন শ্রেণির অব্যয়?

ক) অনুকার
খ) সমন্বয়ী
গ) অনন্বয়ী
ঘ) পদান্বয়ী
Note :

”মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ” - বাক্যে ”মরি মরি” অনন্বয়ী শ্রেণির অব্যয়।

যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্যদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন উচ্ছাস প্রকাশের মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ! এছাড়া স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি সম্মতি প্রকাশে, যন্ত্রণা প্রকাশে, সম্ভাবনায় ইত্যাদিতে অনন্বয়ী অব্যয় হয়।

21.

ধ্বনি হলো –

ক) ভাষার ক্ষুদ্রতম অংশ
খ) অর্থবোধক শব্দসমষ্টি
গ) ভাষার লিখিত রূপ
ঘ) বাক্যের লিখিত রূপ
Note :

মানুষের কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত আওয়াজ বা ধ্বনি হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম একক বা অংশ।  বাংলা ব্যাকরণ ও ভাষাবিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য  হলো:সংজ্ঞা: মুখ দিয়ে উচ্চারিত ভাষার ক্ষুদ্রতম বা মৌলিক এককই হলো ধ্বনি। ধ্বনি মূলত দুই প্রকার—স্বরধ্বনি (যেমন: অ, আ) এবং ব্যঞ্জনধ্বনি (যেমন: ক, খ)। বর্ণ: ধ্বনি হলো শোনার বিষয়। যখন এই ধ্বনিগুলোকে কোনো সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে লিখে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বর্ণ বলে।

22.

আমি কি ডরাই সখি ভিখারী "রাঘবে"?--বাক্যে উদ্ধৃত শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক) কর্মে ২য়া
খ) অপাদানে ৭মী
গ) করণে ৭মী
ঘ) অপাদানে ৫মী
Note :

"আমি কি ডরাই সখি ভিখারি রাঘবে"—এই বাক্যের 'রাঘবে' শব্দটি হলো অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তিব্যাকরণিক কারণ: যার কাছ থেকে কোনো কিছু ভীত, রক্ষিত, বিরত বা উৎপন্ন হয়, তাকে অপাদান কারক বলে。 যেহেতু এখানে 'ভিখারি রাঘব' (শ্রী রাম)-এর প্রতি ভয়ের কথা বোঝানো হয়েছে, তাই 'রাঘবে' অপাদান কারক। এর সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত থাকায় এটি সপ্তমী বিভক্তি。

23.

'যা কষ্টে জয় করা যায়।' --এক কথায় কী হবে?

ক) কষ্টার্জিত
খ) পরিশ্রমলব্ধ
গ) দুর্জয়
ঘ) দুর্লভ
Note :

সঠিক উত্তর দুর্জয়

'যা কষ্টে জয় করা যায়। ' - - এক কথায় প্রকাশ হবে - দুর্জয়। একাধিক পদ বা উপবাক্যকে একটি শব্দে প্রকাশ করা হলে, তাকে বাক্য সংকোচন, বাক্য সংক্ষেপণ বা এক কথায় প্রকাশ বলে । যেমন : যা কষ্টে লাভ করা যায় - দুর্লভ। আয় অনুসারে ব্যয় করে যে - মিতব্যয়ী।

24.

কথায় বর্ণনা করা যায় না ‘ এ বাক্যের সংক্ষিপ্ত রূপ কী?

ক) অনিবর্চনীয়
খ) বর্ণনাতীত
গ) নির্বচনীয়
ঘ) অবর্ণনীয়
Note :

‘কথায় বর্ণনা করা যায় না যা’ -এ বাক্যের সংক্ষিপ্ত রূপ বা এক কথায় প্রকাশ হলো অনির্বচনীয় অথবা অবর্ণনীয়। 

25.

'যদ্যাপি'এর সন্ধি বিচ্ছেদ---

ক) যদ + পি
খ) যদি + অপি
গ) যদি + অপি
ঘ) যদ্য + অপি
Note :

যদ্যপি শব্দের অর্থ হলো যদিও।
স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, ই-কার কিংবা ঈ-কার-এর পর ই ও ঈ ছাড়া অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে, পূর্ববর্তী ই বা ঈ-কার পরিবর্তিত হয়ে 'য' (য-ফলা) হয় এবং এই য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে যুক্ত হয়।
এখানে, যদি + অপি = যদ্যপি। 'যদি'-এর ই-কার এবং 'অপি'-এর অ-কার মিলে য-ফলা (দ্য) তৈরি হয়েছে।
এই নিয়মের আরও কিছু উদাহরণ:
- অতি + অধিক = অত্যধিক
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত
- প্রতি + অহ = প্রত্যহ
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত
- পরি + অন্ত = পর্যন্ত
- অভি + উদয় = অভ্যুদয়।

26.

যে বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি ধাতু বা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে বলে ---

ক) ক্রিয়া
খ) উপসর্গ
গ) বিভক্তি
ঘ) প্রত্যয়
Note :

যে বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি ধাতু বা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে প্রত্যয় বলে। 

27.

“দ্বীপ” এর ব্যাসবাক্য-

ক) দুদিকে অপ যার
খ) দ্বীপের মত
গ) চার দিকে জল যার
ঘ) দুদিকে আবদ্ধ জল যার
Note :

দ্বীপ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য হলো "দুদিকে অপ যার"।  এখানে 'অপ' (বা 'অপঃ') বলতে জল বা পানিকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ, যে ভূখণ্ডের দুই দিকেই জল থাকে তাকে দ্বীপ বলে। বাংলা ব্যাকরণে এটি মূলত একটি বহুব্রীহি সমাস l 

28.

”এমন ছেলে আর দেখিনি” বাক্যে ”ছেলে” শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক) কর্তায় শূন্য
খ) কর্মে শূন্য
গ) পাদানে শূন্য
ঘ) অধিকরণে মূন্য
Note :

”এমন ছেলে আর দেখিনি” বাক্যে ”ছেলে” শব্দটি কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।

যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে,  তাকে কর্ম কারক বলে।

ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়,  তা - ই কর্ম কারক।

যেমন: ডাক্তার ডাক।  তাকে বলো।  ইত্যাদি।

29.

বর্ণালীর প্রান্তীয় বর্ণ কি কি?

ক) বেগুনি ও হলুদ
খ) লাল ও নীল
গ) নীল ও সবুজ
ঘ) বেগুনি ও লাল
Note :

সূর্যরশ্মি বিচ্ছুরণের ফলে সৃষ্ট বর্ণালি হলো সৌর বর্ণালি। বর্ণালিতে সাতটি বর্ণ হলো- বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। বর্ণালির প্রান্তীয় বর্ণদ্বয় হলো বেগুনি ও লাল।

30.

কোনটি শুদ্ধ বানান?

ক) শিরচ্ছেদ
খ) শিরোচ্ছেদ
গ) শিরশ্ছেদ
ঘ) শিরাচ্ছেদ
Note :

শিরশ্ছেদ বানানটি সম্পূর্ণ শুদ্ধ, বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বিসর্গ (ঃ)-এর পর ‘ছ’ থাকলে বিসর্গ লোপ পেয়ে ‘শ্ছ’ (তালব্য শ+ছ) হয়。 সেই হিসেবে শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ 

31.

'কপোল' এর প্রতিশব্দ কী?

ক) ভাগ্য
খ) গাল
গ) ললাট
ঘ) কপাল
Note :

কপোল' শব্দের প্রধান প্রতিশব্দ হলো গাল

32.

‘মেধাবী’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় নিচের কোনটি?

ক) মেধা+ বিন্‌
খ) মেধা +বি
গ) মেধা+বী
ঘ) মেধা+আবী
Note :

সঠিক উত্তর মেধা+ বিন্‌

‘মেধাবী’ শব্দের প্রকৃতি - প্রত্যয় হল  মেধা + বিন   ধাতু বা ক্রিয়ার সাথে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন - রাঁধ + উনি = রাঁধুনি, ডুব + অন্ত = ডুবন্ত। শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন - মেধা + বীন = মেধাবী, বর্ষ + ইক = বার্ষিক। ‘বিন’ ( - বী) প্রত্যয়টি ‘আছে’ অর্থে যুক্ত হয়। ‘বিন’ প্রত্যয়টি প্রথমার একবচনে পুংলিঙ্গ ‘বী’ স্ত্রীলিঙ্গে ‘বিনী’ এবং সমাসে পূর্বপদে হলে ‘বি’ হয়। যেমন - মেধাবী, মেধাবিনী, মায়াবী, মায়াবিনী ইত্যাদি।

33.

'যে ব্যক্তি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ভিক্ষা করে বেড়ায়'-- এক কথায় ---

ক) মাধুকরী
খ) মধুকর
গ) অর্বাচীন
ঘ) অবিমৃষ্যকারী
Note :

যা প্রবীণ বা প্রাচীন নয় - অর্বাচীন।

যে ভবিষ্যৎ না ভেবেই কাজ করে - অবিমৃষ্যকারী।

যে ব্যক্তি একঘর থেকে অন্য ঘরে ভিক্ষা করে বেড়ায় - মাধুকরী।

তাই সঠিক উত্তর: মাধুকরী।

34.

'গবেষণা' এর সন্ধি বিচ্ছেদ ----

ক) গ + এষণা
খ) গো + ষণা
গ) গ + ষণা
ঘ) গো + এষণা
Note :

গবেষণা' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো গো + এষণা

35.

গুণহীনে ত্যাগ কর। -বাক্যে ”গুণহীনে” কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক) কর্মে ৭মী
খ) অধিকরণে ৭মী
গ) সম্প্রদানে ৭মী
ঘ) অপাদানে ৭মী
Note :

সঠিক উত্তরটি হলো: কর্মে ৭মী।
ব্যাখ্যা:
১. কারক নির্ণয়: বাক্যটির ক্রিয়াপদ হলো 'ত্যাগ কর'। ক্রিয়াপদকে 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা কর্ম কারক (যদি স্বত্ব ত্যাগ করে দান না বোঝায়)।
প্রশ্ন: কাকে ত্যাগ কর?
উত্তর: গুণহীনে (গুণহীন ব্যক্তিকে)।
সুতরাং, এটি কর্ম কারক।
২. বিভক্তি নির্ণয়: মূল শব্দ 'গুণহীন'-এর সঙ্গে 'এ' (গুণহীন + এ = গুণহীনে) বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী 'এ' হলো ৭মী বিভক্তি।
তাই, 'গুণহীনে' পদটি কর্মে ৭মী বিভক্তি।

36.

'গায়ক' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

ক) গ +য়ক
খ) গৈ + অক
গ) গো + অক
ঘ) গা + অক
Note :

এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয় এবং আয় হয়। যেমন: গৈ + অক = গায়ক (ঐ + অ = আয় + অ) নৈ + অক = নায়ক। 

37.

'নীলাম্বর' কোন সমাস?

ক) বহুব্রীহি
খ) তৎপুরুষ
গ) কর্মধারয়
ঘ) অব্যয়ীভাব
Note :

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসঃ যে সমাসে পূর্বপদ বিশেষন এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষন হয় তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।

যেমনঃ নীলাম্বর = নীল অম্বর যার

নীলকণ্ঠ = নীল কন্ঠ যার

পীতাম্বর = পীত অম্বর যার

সুগন্ধি = সু গন্ধ যার

38.

'ইঁদুর কপালে' বাগধারাটির অর্থ কি?

ক) মন্দ ভাগ্য
খ) ভাল ভাগ্য
গ) ইঁদুরের মত কপালে
ঘ) ছোট কপালে
Note :

'ইঁদুর কপালে' বাগধারাটির অর্থ মন্দ ভাগ্য।

ইঁদুর কপালে (মন্দ ভাগ্য) – এতো কষ্ট করেও সুখের মুখ দেখলে না, তুমি আসলেই একটা ইঁদুর কপালে।

39.

'যিনি অধিক কথা বলেন না।' --এক কথায় কী হবে?

ক) সংযত
খ) মিতভাষী
গ) অল্পভাষী
ঘ) সন্ন্যাসী
Note :

যিনি অধিক কথা বলেন না'—তাকে এক কথায় মিতভাষী বলা হয়।

40.

'উচ্ছ্বাস' শব্দটির প্রতিশব্দ নয় কোনটি?

ক) স্ফুরণ
খ) উদ্ভাসিত
গ) স্ফীতি
ঘ) বিকাশ
Note :

উচ্ছ্বাস শব্দের প্রতিশব্দ গুলো হল - প্রবল ভাবাবেগ, উল্লাস, বিকাশ, স্ফূরণ, নিঃশ্বাস ইত্যাদি। উদ্ভাসিত অর্থ উন্মোচিত, বিকশিত।

41.

জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়- চরণটিতে জেলে কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক) কর্তৃকারকে প্রথমা
খ) কর্মকারকে প্রথমা
গ) কর্মকারকে সপ্তমী
ঘ) কর্তৃকারকে সপ্তমী
Note :

- প্রদত্ত বাক্যটি হলো- 'জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়'।
- এখানে ক্রিয়াপদ হলো 'ধরে'।
- 'কে' বা 'কারা' দিয়ে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করলে কর্তৃকারক পাওয়া যায়।
- বাক্যটিতে 'কে মাছ ধরে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- 'জেলে ভাই'
- যেহেতু কাজটি 'জেলে' সম্পন্ন করছে, তাই 'জেলে' হলো কর্তৃকারক
- 'জেলে' শব্দটিতে কোনো বিভক্তি চিহ্ন (এ, য়, তে ইত্যাদি) যুক্ত হয়নি, অর্থাৎ মূল শব্দটিই বসেছে।
- বিভক্তি চিহ্ন স্পষ্টভাবে যুক্ত না থাকলে তাকে শূন্য বিভক্তি বা প্রথমা বিভক্তি বলা হয়।
- তাই 'জেলে' শব্দটি কর্তৃকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি।

42.

'পদ্ধতি' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ ----

ক) পদ্‌ + হতি
খ) পদ + ধতি
গ) পৎ + ধতি
ঘ) পদ্‌ + ইতি
Note :

'পদ্ধতি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো পদ্ + হতি। এটি একটি ব্যঞ্জন সন্ধি। 

সন্ধি: পদ্‌ + হতি = পদ্ধতি।

নিয়ম: ব্যঞ্জনবর্ণের সমীভবন নিয়মানুসারে, 'দ' এর পরে 'হ' থাকলে 'হ' স্থানে 'ধ' হয় এবং আগের 'দ' স্থানেও 'ধ' হয়ে 'দ্ধ' (ধ+ধ) যুক্তাক্ষর তৈরি করে (অর্থাৎ, পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনটি পরবর্তী ব্যঞ্জনের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়)। 

43.

সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কোন বিরামচিহ্ন বসে?

ক) কোলন
খ) সেমিলোলন
গ) কমা
ঘ) বিন্দু
Note :

সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে তাদের মাঝে কমা (,) বসে。

44.

'রবাণের চিতা' বাগধারটির অর্থ কী?

ক) উভয় সংকট
খ) শেষ বিদায়
গ) চূড়ান্ত অশান্তি
ঘ) চির অশান্তি
Note :

'রাবণের চিতা' বাগধারাটির অর্থ হলো চির অশান্তি বা সর্বদাই জ্বলতে থাকা দুঃখ-কষ্ট l হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী রামায়ণ অনুসারে, লঙ্কার রাজা রাবণ রামের হাতে নিহত হওয়ার পর তার শবদাহ করা হয়েছিল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণের সেই চিতার আগুন আর কখনো নেভেনি। সেই চিরকাল জ্বলতে থাকা আগুনের উপমা থেকেই এই বাগধারাটির জন্ম, যা মানুষের জীবনের এমন কোনো দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ বা অশান্তিকে বোঝায় যা সহজে দূর হয় না। 

45.

বাংলা বর্নমালায় অর্ধমাত্রার বর্ন কয়টি?

ক) ৭
খ) ৯
গ) ১০
ঘ) ৮
Note :

বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ মোট ৮টিস্বরবর্ণ (১টি):

ব্যঞ্জনবর্ণ (৭টি): খ, গ, ণ, থ, ধ, প এবং শ 

46.

'এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি'- বাক্যটি কোন কালের?

ক) সাধারণ অতীত
খ) নিত্যবৃত্ত অতীত
গ) ঘটমান বর্তমান
ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
Note :

বার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি' – বাক্যটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের। যে ক্রিয়াটি সবেমাত্র শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফলাফল বা রেশ এখনও বর্তমান, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।

47.

কোনটি শুদ্ধ বানান?

ক) নুন্যাধিক
খ) ন্যূনাধিক
গ) ন্যুন্যাধিক
ঘ) ন্যুনধিক
Note :

বাংলা শব্দের শুরুতে ঊ - কারের ব্যবহার অনেক কম। তাই বানান মনে রাখার ক্ষেত্রে ঊ - কার যুক্ত শব্দ মনে রাখাই শ্রেয়। এক্ষেত্রে দু - একটি সূত্র: ১. বাংলা শব্দের প্রথম বর্ণে, খ ঙ ছ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ থ ফ ষ এই ব্যঞ্জন গুলোর ওকার যুক্ত ব্যবহার দেখা যায় না। ২. শব্দের শেষে থাকলে তার অব্যবহৃত পূর্ববর্তী বর্ণের ঊ হয়। যেমন: রূঢ় গূঢ়।

48.

'ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে' এখানে 'ঝিনুক' কোন কারক?

ক) অপাদান কারক
খ) সম্প্রদান কারক
গ) কর্ম কারক
ঘ) অধিকরণ কারক
Note :

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে । যেমন- সব ঝিনুকে মুক্তা মেলে না । খেজুর রসে গুড় হয় । পাপে বিরত হও ।

49.

'আগ্নেয়' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?

ক) অগ্নি + য়
খ) অগ্নি + ষ্ণেয়
গ) অগ্নি + এয়
ঘ) অগ্নি + য়
Note :

'আগ্নেয়' =অগ্নি + ষ্ণেয় । এটি একটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ, যেখানে 'অগ্নি' হলো প্রকৃতি এবং 'ষ্ণেয়' (যা 'এয়' হিসেবে উচ্চারিত হয়) হলো প্রত্যয় । 

50.

"টাকায় টাকা আনে"-এখানে 'টাকায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক) কর্তৃকারকে ৭মী
খ) কর্মকারকে ৭মী
গ) অপাদানে ৭মী
ঘ) করণ কারকে ৭মী
Note :

বাক্যের কর্তাকেই বলা হয় কর্তৃকারক ।
- অর্থাৎ বাক্যে ক্রিয়াটি যার দ্বারা সম্পাদিত হয় তাকে কর্তৃকারক বলে ।
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক ।
- বাক্যের ক্রিয়াকে কে/কারা দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কর্তৃকারক পাওয়া যায় ।
- যেমন: ''টাকায় টাকা আনে''- এই বাক্যে কে টাকা আনে প্রশ্ন করলে উত্তর আসে ‘টাকায়’ তাই তা কর্তৃকারক। এবং এর সাথে যুক্ত হয়েছে ৭মী বিভক্তি। তাই উত্তর হবে কর্তৃকারকে ৭মী।
- কর্তৃকারকে ৭মী’র আরো উদাহরণ - ঘোড়ায় গাড়ি টানে; গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।
- আবার 'টাকায় টাকা হয়' অপাদান কারক।
- কেননা এই বাক্যে টাকা থেকে টাকা উৎপন্ন হওয়া বোঝাচ্ছে। তাই এটি অপাদান কারক।

You've reached the free limit!

You can only see 50 questions with free access.

Login to upgrade