টপিকঃ বাংলা ব্যাকরণ

বিষয়

বাংলা ব্যাকরণ

Free: 50 Qs

1.

ক্রিয়ামূল, ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ ইত্যাদি ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?

ক) ধ্বনিতত্ত্ব
খ) রূপতত্ত্ব
গ) বাক্যতত্ত্ব
ঘ) পদক্রম
Note :

সব ভাষার ব্যাকরণেই প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয় –
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax) এবং
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)

এ ছাড়া অভিধানতত্ত্ব (Lexicography) ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

১. ধ্বনিতত্ত্ব : মানুষের বাক প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালি, মুখবিবর, জিহ্বা, আল - জিহ্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ‘ধ্বনি’ বলা হয়। বাক প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সুক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে (Unit) ধ্বনিমূল (Phoneme) বলা হয়। ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, বর্ণমালা, ধ্বনি, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

২. রূপতত্ত্বঃ এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলন শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ (morpheme)। রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব (Morphology) বলা হয়। শব্দ, প্রত্যয়, পুরুষ, উপসর্গ, অনুসর্গ, কারক ও বিভক্তি, বচন, ক্রিয়ার কাল, ক্রিয়ামূল, দ্বিরুক্ত শব্দ, পদাশ্রিত নির্দেশক, সমাস, লিঙ্গ ইত্যাদি শব্দতত্ত্বে বা রূপতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

৩. বাক্যতত্ত্বঃ মানুষের বাক্‌প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনি সমন্বয়ে গঠিত শব্দসহযোগে সৃষ্ট অর্থবোধক বাক প্রবাহের বিশেষ বিশেষ অংশকে বলা হয় বাক্য (Sentence)। বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বাচ্য, উক্তি, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন ও বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্ৰম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়। বাক্যের মধ্যে কোন পদের পর কোন পদ বসে, কোন পদের স্থান কোথায় - বাক্যতত্ত্বে এসবের পূর্ণ বিশ্লেষণ থাকে। বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমও বলা হয়।

৪. অর্থতত্ত্বঃ শব্দের অর্থবিচার, বাক্যের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন প্রকারভেদ, যেমন—মুখ্যার্থ, গৌণার্থ, বিপরীতার্থ ইত্যাদি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

2.

কোনটি ভাষাবংশের নাম নয়?

ক) আফ্রিকীয়
খ) দ্রাবিড়ীয়
গ) ইন্দো-ইউরোপীয়
ঘ) হিস্পানি
Note :

হিস্পানি কোনো ভাষাবংশ বা ভাষা পরিবারের নাম নয়। এটি মূলত স্পেনের প্রধান ভাষা স্পেনীয় (Spanish)-এর অপর একটি নাম বা বিশেষণ। 

3.

'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে বোঝায়-

ক) আঞ্চলিক রীতির বাংলা ভাষা
খ) কথ্য রীতির বাংলা ভাষা
গ) চলিত রীতির বাংলা ভাষা
ঘ) সাধু রীতির বাংলা ভাষা
Note :

'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে মূলত সর্বজনগ্রাহ্য ও আদর্শ চলিত রীতির বাংলা ভাষাকে বোঝায়। এটি আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে নির্দিষ্ট ব্যাকরণ ও বানান মেনে চলে। শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সকল আনুষ্ঠানিক কাজে এই মান্য বা প্রমিত রূপটি ব্যবহৃত হয়

4.

কোনটি ঠিক?

ক) ব্যাকরণ ভাষার অনুগামী
খ) ভাষা ব্যাকরণের অনুগামী
গ) ব্যাকরণ শিক্ষার অনুগামী
ঘ) ব্যাকরণ শব্দযন্ত্রের অনুগামী
Note :

সঠিক উত্তরটি হলো: ব্যাকরণ ভাষার অনুগামী, ভাষা আগে সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষ কীভাবে কথা বলে তা বিশ্লেষণ ও বর্ণনা করার জন্যই পরবর্তীতে ব্যাকরণ তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভাষা ব্যাকরণ মেনে চলে না, বরং ব্যাকরণ সবসময় ভাষার নিয়ম অনুসরণ করে চলে।

5.

বক্তৃতা ও সংলাপের জন্য কোন ভাষা বেশি ব্যবহার করা হয়?

ক) আঞ্চলিক ভাষা
খ) চলিত ভাষা
গ) উপভাষা
ঘ) সাধু ভাষা
Note :

বক্তৃতা ও সংলাপের জন্য চলিত ভাষা বেশি ব্যবহার করা হয়।  চলিত ভাষারীতি মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি এবং এটি সাবলীল। তাই প্রাঞ্জল ও আকর্ষণীয় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য এবং নাটক বা দৈনন্দিন জীবনের সংলাপ লেখার ক্ষেত্রে চলিত বা প্রমিত রূপটিই সবচেয়ে উপযোগী। পক্ষান্তরে, সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর এবং এটি ভাষণ বা সংলাপের জন্য অনুপযোগী। 

6.

বাংলা লেখ্য ভাষার রূপ কয়টি?

ক) তিনটি
খ) দুইটি
গ) চারটি
ঘ) সাতটি
Note :

বাংলা লেখ্য ভাষার প্রধান রূপ দুটি । এগুলো হলো:
১. সাধু রীতি: গুরুগম্ভীর, তৎসম শব্দবহুল এবং ব্যাকরণগতভাবে সুনির্দিষ্ট রূপ।
২. চলিত রীতি: আধুনিক, সহজ ও সর্বজনগ্রাহ্য রূপ, যা বর্তমানে লেখা ও বলার প্রধান মাধ্যম ।

7.

প্রকৃতি ও প্রত্যয় বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?

ক) বাক্যতত্ত্ব
খ) অর্থতত্ত্ব
গ) রূপতত্ত্ব
ঘ) ধ্বনিতত্ত্ব
Note :

রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়সমূহ :

কারক, সমাস, কাল ক্রিয়া
ধাতু, লিঙ্গ, বচন নিয়া
প্রকৃতি, প্রত্যয় পাবে তুমি
রূপতত্ত্বের স্বর্গে গিয়া।

8.

ভাষার মৌলিক রীতি কোনটি?

ক) বক্তৃতার রীতি
খ) লেখার রীতি
গ) কথা বলার রীতি
ঘ) লেখা ও বলার রীতি
Note :

সঠিক উত্তর হলো: **ঘ) লেখা ও বলার রীতি**।
ভাষার প্রধান বা মৌলিক রূপ দুটি:
১. **মৌখিক রীতি (Oral):** যা মানুষ কথা বলার জন্য ব্যবহার করে।
২. **লৈখিক রীতি (Written):** যা মানুষ লেখার জন্য ব্যবহার করে।
বক্তৃতার রীতি মূলত মৌখিক রীতিরই একটি অংশ, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভাষাকে প্রধানত এই দুটি মৌলিক রূপেই ভাগ করা হয়।
 

9.

রাজা রামমোহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কী?

ক) মাগধীয় ব্যাকরণ
খ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
গ) মাতৃভাষা ব্যাকরণ
ঘ) ভাষা ও ব্যাকরণ
Note :

- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি হিসেবে 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩) রচনা করেন।
- তার অন্যান্য  রচনা হচ্ছে 'বেদান্তসার' (১৮১৫), 'ভট্টাচার্যের সহিত বিচার' (১৮১৭), 'সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' (১৮১৮) ইত্যাদি।

10.

রূপতত্ত্বের অপর নাম কি?

ক) বাক্যতত্ত্ব
খ) ধ্বনিতত্ত্ব
গ) পদক্রম
ঘ) শব্দতত্ত্ব
Note :

ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় চারটি। 

১) ধ্বনিতত্ত্ব বা phonology 

২) শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব বাmorphology 

৩) বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম বা syntax

 ৪) অর্থতত্ত্ব বা semantics

11.

বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?

ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
খ) প্রমথ চৌধুরী
গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ঘ) প্রমথনাথ বসু
Note :

বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তন করেন - প্রমথ চৌধুরী। প্রমথ চৌধুরী বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রাবন্ধিক, কবি ও লেখক। তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক। তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন। তিনি "সবুজপত্র " পত্রিকা সম্পাদনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তন করেন।

12.

ভারতীয় মৌলিক লিপি কোনটি?

ক) ব্রাহ্মী
খ) কুটিল
গ) খরোষ্ঠী
ঘ) নাগরী
Note :

ব্রাহ্মী লিপি থেকে বাংলা লিপি ও বর্ণমালার উদ্ভব হয়। ব্রাহ্মী লিপি ভারতের মৌলিক লিপি। সিংহলী, শ্যামী, যবদ্বীপী, নাগরী ও তিব্বতি লিপিরও উৎস হলো এই ব্রাহ্মী লিপি। সেন আমলে মূলত বাংলা লিপির গঠনকার্য শুরু হয় এবং তা পাঠান আমলে স্থায়ী রূপ লাভ করে।

13.

বাংলা-গদ্যের আদি নিদের্শন কোনটি?

ক) চর্যাপদ
খ) কোচবিহারের রাজ্যের লেখা চিঠি
গ) নরোত্তম দাসের দেহকড়চা
ঘ) শেখ শুভোদয়া
Note :

বাংলা গদ্যের প্রথম বা আদি নিদর্শন হলো ১৫৫৫ সালে কোচবিহারের রাজা নরনারায়ণের ছোট ভাই ও সেনাপতি শুক্লধ্বজ (চিলা রায়) কর্তৃক আসামের আহোম রাজাকে লেখা একটি চিঠি。 এছাড়া, অষ্টাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন দলিল, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পুঁথি ও পন্ডিতদের রচিত গদ্য গ্রন্থ বাংলা গদ্যের প্রাচীন রূপ হিসেবে গণ্য হয়。

14.

ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই-

ক) রসতত্ত্ব
খ) বাক্যতত্ত্ব
গ) রূপতত্ত্ব
ঘ) ক্রিয়ার কাল
Note :

- একাধিক শব্দ কী নিয়মে যুক্ত হয়ে বৃহত্তর এককসমূহ (যাদের মধ্যে বাক্য প্রধানতম একক) গঠন করে এবং এই বৃহত্তর এককগুলোর বৈশিষ্ট্য কী, সেটাই বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- মূল কথা, ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই বাক্যতত্ত্ব।

15.

বাংলা ভাষায় ব্যাকরণ কে লিখেন?

ক) রাজা রামমোহন রায়
খ) ডেভিড হেয়ার
গ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ঘ) উইলিয়াম কেরী
Note :

রাজা রামমোহন রায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লিখেছেন। তিনি ১৮৩৩ সালে "গৌড়ীয় ব্যাকরণ"  নামক পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থটি রচনা করেন, যা ছিল কোনো বাঙালি কর্তৃক বাংলায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ।

16.

বাংলা ভাষার সাধু ও চলিতরূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন কে?

ক) উইলিয়াম কেরী
খ) শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়
গ) এডওয়ার্ড ডিমোক
ঘ) প্রমথ চৌধুরী
Note :

বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন ভাষাতাত্ত্বিক প্রমথ চৌধুরী。তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত এবং 'সবুজপত্র' (১৯১৪) পত্রিকার মাধ্যমে চলিত রীতিকে সাহিত্যের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন

17.

বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে নিম্নোক্ত একটি ভাষা থেকে-

ক) সংস্কৃত
খ) পালি
গ) প্রাকৃত
ঘ) অপভ্রংশ
Note :

মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে এ মতবাদ দিয়েছেন স্যার জর্জ গ্রিয়ার্সন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এ মত সমর্থন করেছেন। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন- গৌড়ীয় প্রাকৃত হতে বাংলা ভাষার উদ্ভব।

বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে এককথায় - "ইন্দো ইউরোপীয় →শতম →ইন্দো আর্য →ভারতীয় →প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা →প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্যভাষা →গৌড়ী প্রাকৃত →গৌড় অপভ্রংশ →বঙ্গ-কামরূপী →বাংলা ও অসমীয়া।"
 

18.

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কার কাছে প্রত্যক্ষভাবে ঋণী?

ক) পালি
খ) অপভ্রংশ
গ) অবহট্ট
ঘ) সংস্কৃত
Note :

ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রত্যক্ষভাবে অপভ্রংশ (বিশেষ করে মাগধী অপভ্রংশ)-এর কাছে ঋণী। 

প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে প্রাকৃত ভাষার উদ্ভব হয়। পরবর্তীতে এই প্রাকৃত ভাষার পরিবর্তিত ও বিকৃত রূপ হিসেবে অপভ্রংশ এবং অবহট্ট ভাষার সৃষ্টি হয়। আর এই অবহট্‌ঠ বা অবহট্ট । রূপ থেকেই কালক্রমে আধুনিক বাংলা ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে। বাংলা ভাষার বিকাশের ধাপগুলো সাধারণত  নিম্নরূপ: বৈদিক ও সংস্কৃত ভাষা: বাংলা ভাষার মূল উৎস। প্রাকৃত ভাষা: সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, যার মধ্যে মাগধী প্রাকৃত প্রধান। অবহট্‌ঠ বা অবহট্ট : প্রাকৃতের আরও পরিবর্তিত রূপ। অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ শুরু করে।  বাংলা সাহিত্য সৃষ্টির শুরুতেও অপভ্রংশের প্রভাব দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ-এর ভাষা মূলত অপভ্রংশ ওবাংলা ভাষার মিশ্রণে তৈরি। 

19.

কোন শাসনামলে বাংলা লিপি স্থায়ী রূপ লাভ করে?

ক) গুপ্ত যুগ
খ) পাঠান যুগ
গ) পাল যুগ
ঘ) মোগল যুগ
Note :

পাঠান যুগে বাংলা লিপি মোটামুটি স্থায়ী রূপ লাভ করে।

20.

প্রমথ চৌধুরী কোন বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রভাবিত করেছিলেন?

ক) উপন্যাসে ইতিহাস বর্জনে
খ) সাহিত্যে মুসলমান চরিত্র সৃষ্টিতে
গ) চলিত ভাষার ব্যবহারে
ঘ) গদ্য কবিতা রচনায়
Note :

বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার (সাধু রীতির পরিবর্তে মুখের ভাষার) প্রচলন ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে প্রমথ চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত 'সবুজপত্র' পত্রিকার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির এক নতুন বিপ্লব ঘটে, যা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকেও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। 

21.

সবুজপত্র বাংলা ভাষা ও সাহিেত্য কী হিসেবে পরিচিত?

ক) একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ
খ) এক শ্রেণীর লেখকদের আলোচিত রচনা সংকলন
গ) বিশেষ উল্লেখযোগ্য সাহিত্য পত্রিকা
ঘ) অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ও নাটক
Note :

সবুজপত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য সাহিত্য পত্রিকা। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান সাময়িক পত্রিকা ছিল সবুজপত্র । এটি প্রকাশিত হত প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায়। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২১ বঙ্গাব্দে এবং ইংরেজি  ১৯১৪ সালে। সবুজপত্রে কখনো কোন বিজ্ঞাপন বা ছবি প্রকাশিত হয় নি।

22.

বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের আঞ্চলিক কথ্য রীতি/উপভাষার নাম কী ?

ক) বাঙ্গালি
খ) বরেন্দ্রি
গ) পূর্বি
ঘ) কামরূপি
Note :

বাংলাদেশের দক্ষিণ ও মধ্য অঞ্চলে প্রচলিত আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষাকে প্রধানত "বাঙ্গালি" উপভাষা বলা হয়। এছাড়া, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের (যেমন- সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকা) উপভাষাকে অনেক সময় "সুন্দরবানী" এবং বৃহত্তর দক্ষিণের পূর্বাংশে (যেমন- নোয়াখালী ও এর আশেপাশের অঞ্চল) "নোয়াখাইল্লা" বা নোয়াখালীয় উপভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

23.

কে সর্বপ্রথম বাংলা টাইপ সহযোগে বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন?

ক) স্যার উইলিয়াম জোনস্
খ) স্যার উইলিয়াম কেরী
গ) রাজীব লোচন মুখোপাধ্যায়
ঘ) ব্রাসি হ্যালহেড
Note :

নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (Nathaniel Brassey Halhed) সর্বপ্রথম বাংলা টাইপ সহযোগে বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন।  তিনি ১৭৭৮ সালে ইংরেজিতে ‘A Grammar of the Bengal Language’ নামে গ্রন্থটি রচনা ও প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থে ব্যবহৃত প্রথম বাংলা টাইপগুলো তৈরি করেছিলেন চার্লস উইলকিনস

24.

কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে?

ক) ভারতীয় আর্য
খ) সংস্কৃত
গ) ইন্দো-ইউরোপীয়
ঘ) বঙ্গ-কামরূপী
Note :

বঙ্গকামরুপী ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দ থেকে বাংলায় হিন্দু ব্রাহ্মণগণ সংস্কৃত ভাষার চর্চা করত,স্থানীয় বৌদ্ধরা প্রাকৃত ভাষার কোন কোন রূপে কথা বলত, যাকে ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মাগধী প্রাকৃতের পূর্ব রূপ বা ভ্যারাইটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়, বাংলা ছিল হিন্দু যাজক বা পুরোহিতদের জন্য সংস্কৃত সাহিত্যের একটি কেন্দ্র, যা স্থানীয়দের কথ্য ভাষাকে প্রভাবিত করে।  প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের একটি অংশ ছিল তখন মধ্য ইন্দো-আর্য উপভাষাগুলি বাংলায় প্রভাবশালী ছিল। এই উপভাষাগুলিকে মাগধী প্রাকৃত বলা হয় এবং এটি আধুনিক বিহার,  বাংলা ও আসামে কথিত হত।  এই ভাষা থেকে অবশেষে অর্ধ - মাগধী প্রাকৃতের বিকাশ ঘটে।   প্রথম সহস্রাব্দের শেষের দিকে অর্ধ - মাগধী থেকে অপভ্রংশের বিকাশ ঘটে।  সময়ের সাথে সাথে বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিকশিত হয়।

25.

কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?

ক) নিখুঁত
খ) আনমনা
গ) অবহেলা
ঘ) নিমরাজি
Note :

বিভিন্ন বিদেশি ভাষার সঙ্গে সঙ্গে সে সব ভাষার কিছু কিছু উপসর্গও বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে। এই সব বিদেশি ভাষার উপসর্গগুলোই বিদেশি উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় বহু বিদেশি উপসর্গ রয়েছে। যেমন—বে, বর, বদ, ফি, গর, নিম, দর, কাম ইত্যাদি।
- প্রয়োগ: বে—বেয়াদব, বেসামাল। বদ—বদলোক, বদনাম।
- বাংলা ভাষায় বিদেশি উপসর্গগুলো সাধারণত আরবি, ফারসি, হিন্দি, উওর্দু ও ইংরেজি থেকে এসেছে।

26.

বাংলা সাহিত্যে কখন গদ্যের সূচনা হয়?

ক) নবম শতকে
খ) ত্রয়োদশ শতকে
গ) ষোড়শ শতকে
ঘ) উনিশ শতকে
Note :

উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয় ।
-এ সময়কে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
-আধুনিক যুগকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
-প্রথম পর্যায়ে ১৮০১ - ১৮৬০ পর্যন্ত,
-দ্বিতীয় পর্যায় ১৮৬১ থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত ।

27.

বাংলা ভাষার সর্বজন গ্রাহ্য লিখিত রূপ কোনটি?

ক) চলিত রীতি
খ) কাব্য রীতি
গ) প্রমিত রীতি
ঘ) সাধু রীতি
Note :

লিখিত বাংলা বা লেখ্য ভাষারীতিকে প্রধানত সাধু ও চলিত (বর্তমানে চলিত রীতির মানসম্মত আদর্শ রূপই প্রমিত রীতি) রীতিতে ভাগ করা যায় । প্রমিত রীতি চলিত রীতিরই আধুনিক রূপ, এটি নিজে সাধু ও চলিতে বিভক্ত নয়।

28.

ব্যাকরণ ও ভাষার মধ্যে কোনটি আগে সৃষ্টি হয়েছে?

ক) ব্যাকরণ
খ) ভাষা
গ) ব্যাকরণ ও ভাষা একসাথে
ঘ) কোনোটিই নয়
Note :

মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম ভাষা।
- মানুষের মুখে উচ্চারিত অর্থবোধক ও মনোভাব প্রকাশক ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলে।
- ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আবিষ্কারের নামই ব্যাকরণ ।
- সুতরাং, আগে ভাষা সৃষ্টি হয়েছে; তারপর ভাষাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার জন্য ব্যাকরণ সৃষ্টি হয়েছে।

29.

'বাগধারা' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?

ক) ভাষাতত্ত্বে
খ) ধ্বনিতত্ত্বে
গ) বাক্যতত্ত্বে
ঘ) অর্থতত্ত্ব
Note :

পুরাতন নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ অনুসারে, ‘বাগধারা’ বাক্যতত্ত্বের আলোচিত বিষয়। অপরদিকে, নতুন নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ অনুসারে, ‘বাগধারা’ অর্থতত্ত্বের আলোচিত বিষয়।

30.

মানুষের মুখে উচ্চারিত অর্থবোধক ও মনোভাব প্রকাশক ধ্বনি সমষ্টিকে বলে-

ক) বর্ণ
খ) বাক্য
গ) শব্দ
ঘ) ভাষা
Note :

মানুষের মুখে উচ্চারিত অর্থবোধক ও মনোভাব প্রকাশক ধ্বনি সমষ্টিকে ভাষা বলে। মানুষ তার মনের ভাব বা অনুভূতি প্রকাশের জন্য কণ্ঠের সাহায্যে অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি উচ্চারণ করে, যা অপরের কাছে বোধগম্য হয়।

31.

বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ কোনটি?

ক) প্রভু যিশুর বাণী
খ) ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
গ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ঘ) মিশনারি জীবন
Note :

কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ  বাংলা ভাষার আদি গদ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি। এই গ্রন্থের লেখক পাদ্রি মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ (পর্তুগিজ: Manoel da Assumpçam মানোয়েল্‌ দা আসুঁসাঁউ)। গ্রন্থটির নাম বাংলা অক্ষরে কখনো 'কৃপার' স্থলে 'ক্রেপার' লেখা হয়েছে। অধিকন্তু প্রায়শ: 'অর্থ ভেদ' দুই শব্দের পরিবর্তে 'অর্থভেদ' এক শব্দ ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলা আদি গদ্যের নমুনা হলেও গ্রন্থটি রোমান হরফে মুদ্রিত হয়।

32.

বাক্যতত্ত্বের অপর নাম কি?

ক) ভাষা
খ) প্রাতিপদিক
গ) পদক্রম
ঘ) সাধিত শব্দ
Note :

ব্যাকরণের প্রধান ও মৌলিক আলোচ্য বিষয় চারটি ।যথা - ধ্বনিতত্ত্ব , শব্দতত্ত্ব , বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব । বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম ।

33.

নিচের কোনটি ব্যাকরণের পাণিনি ধারা?

ক) শাকটায়নী
খ) সৌপদ্ম
গ) কালাপিক
ঘ) লঘু কৌমুদী
Note :

শকতায়নী হলো সংস্কৃত ব্যাকরণের একটি প্রাচীন ধারা যা পাণিনির ব্যাকরণ চর্চার সাথে গভীরভাবে যুক্ত।
- প্রাচীন ভারতীয় ব্যাকরণবিদ পাণিনি তাঁর বিখ্যাত 'অষ্টাধ্যায়ী' গ্রন্থে পূর্ববর্তী অনেক ব্যাকরণবিদের কথা উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে শকতায়ন অন্যতম।
- পাণিনির ব্যাকরণ ধারায় শকতায়নের মতবাদের প্রভাব থাকায় শকতায়নী ধারাটিকে সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- অন্যদিকে, কালাপিক, গুরু কৌমুদী এবং লঘু কৌমুদী হলো সংস্কৃত ব্যাকরণের ভিন্ন ধারা বা পরবর্তীকালের রচিত ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ।

34.

বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়-

ক) সপ্তম খ্রিষ্টাব্দে
খ) খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে
গ) সপ্তম খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
ঘ) খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতকে
Note :

বাংলা ভাষার উদ্ভব হয় সপ্তম খ্রিষ্টাব্দে। বাংলা ভাষা বিকাশের ইতিহাস ১৩০০ বছর পুরোনো।ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে: উদ্ভবকাল ১০ম শতাব্দী (৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ), সেই হিসেবে বয়স প্রায় ১০০০ বছর। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে: উদ্ভবকাল ৭ম শতাব্দী (৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ), সেই হিসেবে বয়স ১৩৫০ বছরের বেশি বা প্রায় ১৪০০ বছর। চর্যাপদ এ ভাষার আদি নিদর্শন। মধ্যভারতীয় আর্য ভাষাকে প্রাকৃত ভাষা বলে। প্রাকৃত ভাষার একটি শাখা হচ্ছে মাগধী ভাষা। মাগধী ভাষার পরের রূপ হচ্ছে মাগধী অবহট্‌ঠ বা অবহট্ট । আর এ ভাষা থেকে ৭ম খ্রিষ্টাব্দে  বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

35.

'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয়?

ক) চলিত রীতি
খ) মিশ্র রীতি
গ) সাধু রীতি
ঘ) আঞ্চলিক রীতি
Note :

'তৎসম' শব্দের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সাধু রীতিতে। তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দগুলো সাধারণত গুরুগম্ভীর হয়, যা সাধু ভাষারীতিকে সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করে

36.

বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি?

ক) কল্লোল
খ) বঙ্গদর্শন
গ) সবুজপত্র
ঘ) কালিকলম
Note :

প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ‘সবুজপর’ পরিকাটি প্রকাশিত হয় । বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এ পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম । কেননা এর মাধ্যমে সাধু গদ্যরীতির পরিবর্তে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত হয়।

37.

চলিত ভাষায় নিম্নের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?

ক) অনুসর্গ
খ) অব্যয়
গ) বিশেষ্য
ঘ) উপসর্গ
Note :

চলিত ভাষায় অনুসর্গ, সর্বনাম এবং ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়

38.

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার কয়টা শাখা?

ক) ১
খ) ১০
গ) ২
ঘ) ৮
Note :

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারটি মূলত ১০টি প্রধান শাখায় বিভক্ত। এর মধ্যে ৮টি শাখা বর্তমানে জীবন্ত বা প্রচলিত এবং ২টি শাখা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। 

জীবন্ত আটটি শাখা:

ইন্দো-ইরানীয়: বাংলা, হিন্দি, ফার্সি, উর্দু ইত্যাদি।

জার্মানিক: ইংরেজি, জার্মান, ডাচ ইত্যাদি।

বাল্টো-স্লাভীয়: রুশ, পোলিশ, চেক ইত্যাদি।

ইতালীয় (রোমান্স): ফরাসি, স্প্যানিশ, ইতালীয়, পর্তুগিজ ইত্যাদি।

কেল্টীয়: আইরিশ, ওয়েলশ, স্কটস গেলিক ইত্যাদি।

হেলেনীয়: গ্রিক ভাষা।

আর্মেনীয়: আর্মেনিয়ার স্থানীয় ভাষা।

আলবেনীয়: আলবেনিয়ার স্থানীয় ভাষা।

বিলুপ্ত দুটি শাখা:

আনাতোলীয়: হিত্তীয় (Hittite) ভাষা।

টোখারীয়: প্রাচীন মধ্য এশিয়ার বিলুপ্ত ভাষা।

39.

সাধু ভাষা সাধারণত কোথায় অনুপযোগী?

ক) কবিতার পঙ্ক্তিতে
খ) গল্পের বর্ণনায়
গ) গানের কলিতে
ঘ) নাটকের সংলাপে
Note :

উনিশ শতকে বাংলা ভাষার যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে তার নাম দেওয়া হয় 'সাধু ভাষা'।
সাধু ভাষার বৈশিস্ট্য-

- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণরীতি অনুসরণ করে।
- সাধু রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি অনুসরণ করে।
- সাধু ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লেখ্য ভাষা।

40.

'Phoneme' শব্দের অর্থ-

ক) শব্দমূল
খ) রূপ
গ) নাম প্রকৃতি
ঘ) ধ্বনিমূল
Note :

বাক প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে ধ্বনিমূল বা Phoneme বলা হয়। আর ধ্বনিত্ত্বকে ইংরেজিতে বলা হয় Phonology.

41.

সাধুরীতিতে কোন পদটির দীর্ঘরূপ হয় না?

 

 

ক) বিশেষ্য
খ) সর্বনাম
গ) অব্যয়
ঘ) ক্রিয়া
Note :

- সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- তবে সাধু ও চলিত রীতিতে অব্যয় অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়।

42.

বাংলা ভাষায় উপভাষা কয়টি?

ক) ৫টি
খ) ৩টি
গ) ৪টি
ঘ) ২টি
Note :

ভাষাবিদ সুকুমার সেন বাংলাভাষাকে ৫ ভাগে বিভাক্ত করে। 

১। রাঢী 

২। বাঙালি

৩। বরেন্দ্রী

৪। ঝাড়খণ্ডি

৫। রাজবংশী 

ভাষার এই আঞ্চলিক বৈচিত্রকে বলা হয় উপভাষা 

43.

চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয়-

ক) সাধু ভাষা
খ) প্রমিত ভাষা
গ) আঞ্চলিক ভাষা
ঘ) উপভাষা
Note :

চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে প্রমিত ভাষা বলা হয়। এটি সমগ্র শিক্ষিত সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও ব্যবহৃত সর্বজনীন এবং মানসম্মত ভাষারূপ। 

44.

বাংলাদেশে প্রথম কোথায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) ঢাকায়
খ) রাজশাহীতে
গ) রংপুরে
ঘ) যশোরে
Note :

- ১৮০০ সালে উইলিয়াম কেরী জোশুয়া মার্সম্যানের সহযোগিতায় শ্রীরামপুর মিশনে মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপন করেন।
- রংপুরে বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা ‘বার্তাবহ যন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৭-১৮৪৮ সালে।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন যার নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’। এখান থেকে ‘ঢাকা নিউজ’ নামে সংবাদপত্র প্রকাশিত হত।

45.

ভাষার কোন রীতি তদ্ভব শব্দ বহুল?

ক) সাধু রীতি
খ) কথ্য রীতি
গ) চলিত রীতি
ঘ) বানান রীতি
Note :

- সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য হলো: সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল কিন্তু চলিত রীতি তদ্ভব শব্দবহুল ও পরিবর্তনশীল।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে, চলিত রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়।
- যেমন: অতঃপর তাহারা চলিয়া গেল (সাধু)। তারপর তারা চলে গেল (চলিত)।

46.

'লিপি' শব্দের অর্থ কী?

ক) ব্যাখ্যা
খ) পর
গ) পড়া
ঘ) লেখা
Note :

'লিপি' শব্দের অর্থ হলো লেখা বা অক্ষর। তবে ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক দিক থেকে এর আরও সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। 

47.

চলিত বাংলা গদ্যের সার্থক প্রবর্তন কে করেন?

ক) টেকচাঁদ ঠাকুর
খ) বীরবল
গ) বিদ্যাসাগর
ঘ) বনফুল
Note :

চলিত বাংলা গদ্যের সার্থক প্রবর্তন করেন বীরবল। প্রমথ চৌধুরী বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রাবন্ধিক, লেখক ও কবি। বীরবল তার ছদ্মনাম। তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক। সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তন করেন।


 

48.

'পদ প্রকরণ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?

ক) বাক্যতত্ত্ব
খ) রূপতত্ত্ব
গ) ধ্বনিতত্ত্ব
ঘ) অর্থতত্ত্ব
Note :

এক বা একাধিক ধ্বনির সম্মিলনে যে অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম একক গঠিত হয় তাকে রূপমূল বলে। পদ বা শব্দের গঠন এবং এদের পরিবর্তন রূপতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয় হওয়ায় 'পদ প্রকরণ' রূপতত্ত্বের (বা শব্দতত্ত্বের) অন্তর্গত।

49.

'সন্ধি' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?

ক) ধ্বনিতত্ত্বে
খ) বাক্যতত্ত্বে
গ) রূপতত্ত্ব
ঘ) বাক্য প্রকরণ
Note :

'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বের (Phonology) আলোচ্য বিষয়। সন্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণকে সহজ ও শ্রুতিমধুর করা । বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি বা বর্ণের উচ্চারণ এবং তাদের মিলন বা পরিবর্তনের নিয়মগুলো ধ্বনিতত্ত্বের অধীনে আলোচনা করা হয়। 


 

50.

লেখ্য ভাষার দুটি রূপের নাম কী ?

ক) সাধু ও চলিত
খ) লেখ্য ও আঞ্চলিক
গ) সাধু ও আঞ্চলিক
ঘ) আঞ্চলিক ও সর্বজনীন
Note :

বাংলা লেখ্য ভাষার প্রধান দুটি রূপ হলো সাধু রীতি এবং চলিত রীতি, এই দুটি রীতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো: সাধু রীতি: ভাষার যে রূপটি সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে, একটু গুরুগম্ভীর এবং তৎসম (সংস্কৃত) শব্দবহুল, তা হলো সাধু ভাষা। এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপ পূর্ণাঙ্গ থাকে (যেমন— চলিতেছে, খাইতেছে)। চলিত রীতি: সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সহজ ও সাবলীল রূপটিই হলো চলিত ভাষা। এটি সর্বজনগ্রাহ্য এবং এতে তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত ও সহজ শব্দের ব্যবহার হয় (যেমন— চলছে, খাচ্ছে)। বর্তমানে প্রমিত রূপটিই চলিত ভাষার আদর্শ মান।

You've reached the free limit!

You can only see 50 questions with free access.

Login to upgrade