টপিকঃ বাংলা ভাষারীতি
1.
গদ্য সাহিত্য কোন যুগের সৃষ্টি?
উনিশ শতকের প্রথমদিকে পর্তুগিজ পাদ্রিগণ বাংলা গদ্যের প্রচলন করেন,সেই সাথে শুরু হয় সাহিত্যের আধুনিক যুগ।
2.
বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ কোনটি?
কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ বাংলা ভাষার আদি গদ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি। এই গ্রন্থের লেখক পাদ্রি মানোএল দা আস্সুম্পসাঁউ (পর্তুগিজ: Manoel da Assumpçam মানোয়েল্ দা আসুঁসাঁউ)। গ্রন্থটির নাম বাংলা অক্ষরে কখনো 'কৃপার' স্থলে 'ক্রেপার' লেখা হয়েছে। অধিকন্তু প্রায়শ: 'অর্থ ভেদ' দুই শব্দের পরিবর্তে 'অর্থভেদ' এক শব্দ ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলা আদি গদ্যের নমুনা হলেও গ্রন্থটি রোমান হরফে মুদ্রিত হয়।
3.
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য-
সাধু ভাষা: বাংলা ভাষায় সংস্কৃত শব্দ সম্পদ, ক্রিয়া ও সর্বনামের পূর্ণরূপ এবং কিছু ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করে ইংরেজি গদ্য সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুকরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাকে সাধু ভাষা বলে।
চলিত ভাষা: তদ্ভব শব্দ, ক্রিয়া ও সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ এবং লেখকের মনোভাব অনুযায়ী পদবিন্যাস প্রণালির ব্যবহারসহ যে স্বচ্ছন্দ, চটুল ও সর্বজনীন সাহিত্যিক গদ্যরীতি মুখের ভাষার আদলে গড়ে উঠেছে, তার নাম চলিত ভাষা।
4. বাংলা অক্ষরের প্রথম নক্শা তৈরি করেন-
5. কথ্যরীতি সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহৃত ভাষাকে কি বলে?
6.
বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি?
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ‘সবুজপর’ পরিকাটি প্রকাশিত হয় । বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এ পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম । কেননা এর মাধ্যমে সাধু গদ্যরীতির পরিবর্তে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত হয়।
9.
ক্রিয়া , সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়-
সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয় । সাধুরীতি ব্যাকরণের নির্দিষ্ট ইয়ম অনুসরণ করে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত । এ রীতিতে সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয় । যেমনঃ আসিয়া (সাধু) > এসে (চলিত); তাহাকে (সাধু) > তাকে (চলিত); অপেক্ষা(সাধু) > চেয়ে (চলিত) ।
10.
কোন অঞ্চলের মৌখিক ভাষাকে ভিত্তি করে চলিত ভাষা গড়ে উঠেছে?
সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা কে " চলিত ভাষা " বলা হয় । চলিত ভাষার আদর্শরুপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয় প্রতিম ভাষা । চলিত ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রমিত উচ্চারণ । কলকাতা অঞ্চলের মৌখিক ভাষাকে ভিত্তি করে চলিত ভাষা গড়ে উঠেছে । উনিশ শতকের তৃতীয় দশকে ভাবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যয়ের হাতে চলিত রীতির প্রথম ব্যবহার হয় । তারপর প্যারীচাঁদ মিত্র ও কালী প্রসন্ন সিংহের রচনায় এর ক্রমবিকাশ ঘটে