নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয়?
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘ইছামতি’ (১৯৫০)।
-ইছামতি নদীকে কেন্দ্র করে বিভূতিভূষণের জন্মস্থান বারাকপুর তথা নিশ্চিন্দিপুরের মোল্লাহাটি নীলকুঠির কথা উপন্যাসে বিধৃত হয়েছে।
-উনিশ শতকের নীলবিদ্রোহের পটভূমিতে সাধারণ মানুষের উত্থান-পতনের মর্মন্তুদ ইতিহাস, ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামে প্রচলিত সংস্কার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নারী জাগরণ, ইংরেজ শাসকদের প্রভাবে কৃষিনির্ভর বাঙালির বাণিজ্য চেতনা ও নীলচাষের প্রতিবাদ প্রভৃতি উপন্যাসের আলেখ্য।
-তিনি এ উপন্যাসের জন্য ‘রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন। উ
-উল্লেখ্য, এ মোল্লাহাটি নীলকুঠির অত্যাচারকে অবলম্বন করে ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র ‘নীলদর্পণ' নাটকটি রচনা করেন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ: ‘মেঘমাল্লার’ (১৯৩১), ‘মৌরীফুল' (১৯৩২), ‘যাত্রাবদল’ (১৯৩৪), ‘জন্ম ও মৃত্যু (১৯৩৭), ‘কিন্নর দল' (১৯৩৮), ‘নবাগত’ (১৯৪৪), ‘তালনবমী’ (১৯৪৪), ‘বিধুমাস্টার' (১৯৪৫), ‘মুখোশ ও মুখশ্রী' (১৯৪৭), ‘সুলোচনা’ (১৯৬৩)।
Related Questions
বাংলা ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৮৭৭ সালে ‘ভারতীয় পত্রিকায় ‘ভিখারিণী গল্প প্রকাশের মাধ্যমে ছোটগল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- কাশ্মীর অঞ্চলের বালক-বালিকা অমর সিংহ ও কমল দেবীকে কেন্দ্র করে ‘ভিখারিণী' গল্পটি রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত গল্প: ‘শেষকথা’, ‘মধ্যবর্তিনী’, ‘শাস্তি’, ‘সমাপ্তি’, ‘নষ্টনীড়’, ‘একরাত্রি’, ‘ছুটি’, ‘হৈমন্তী’, ‘পোস্ট- মাস্টার’, ‘দেনাপাওনা’, ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’, ‘রবিবার’, ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘দুরাশা’, ‘মাস্টার মশাই’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘কঙ্কাল’, ‘নিশীথে’, ‘জীবিত ও মৃত’ প্রভৃতি।
মীর মশাররফ হােসেনের ‘গাে-জীবন’(১৮৮৯) একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা। প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলাে, কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে যে কোনাে কারণেই হােক গাে-হত্যা অনুচিত। স্বীয় বক্তব্যের সমর্থনে লেখক ধর্মগ্রন্থ এবং প্রাত্যহিক-বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নানা যুক্তি ও তথ্য পরিবেশন করেছেন। হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মশাররফ হােসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন। প্রবন্ধটি তৎকালে মুসলিম ধর্মীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এ কারণে ‘আখবারে এসলামিয়া' (১৮৮৪) পত্রিকা প্রতিবাদ প্রকাশ করে এবং লেখককে পরে মামলাতে জড়িয়ে পড়তে হয়। অবশেষে মৌলবাদী মুসলিমদের প্রবল চাপের মুখে তিনি ‘গাে-জীবন’ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির অপশাসন ও নীলকরদের অত্যাচারে অতিষ্ট ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের দুঃখ- দুর্দশা দেখে ব্যথিত হয়ে ‘ভ্রমণকারী বন্ধু’ ছদ্মনামে পরিচিত যুগসন্ধিক্ষণের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ‘নীলকর’ কবিতার ‘চিতেন’ অংশে মহারানি ভিক্টোরিয়ার উদ্দেশ্যে পরিহাসের ছলে লেখেন তাঁর বিখ্যাত পঙ্ক্তি-
‘তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু,
শিখিনি শিং বাঁকানো, কেবল খাবো খোল, বিচিলি ঘাস৷
যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,
আমরা ভুসি পেলেই খুসি হব,
ঘুসি খেলে বাঁচব না৷'
তাঁর রচিত অন্যান্য শ্লেষাত্মক পঙ্ক্তি- ‘কতরূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি, বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।’, ‘নগরের লোক সব এই কয়মাস। তোমার কৃপায় করে মহাসুখে বাস।
সাধু ভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ উপন্যাস ‘চতুরঙ্গ' (১৯১৬)।
-এটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী ও শ্রীবিলাস- এ উপন্যাসের চারটি অঙ্গ।
-শ্রীবিলাস নামে এক যুবকের অনিশ্চিত যাত্রা, তার সাথে বন্ধু শচীশের সাথে সাক্ষাৎ, বিধবা দামিনী এবং আদর্শবাদী ব্যক্তি জ্যাঠামশাইয়ের গল্প নিয়ে উপন্যাসের পটভূমিকা রচিত।
-উপন্যাসটির বর্ণনাকারী শ্রীবিলাস নামে এক যুবক।
-২০০৮ সালে সুমন মুখোপাধ্যায় এ উপন্যাস অবলম্বনে 'চতুরঙ্গ' চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
-‘নৌকাডুবি' উপন্যাসের চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, যোগেন্দ্র, নলিনাক্ষ। '
-চার অধ্যায়' উপন্যাসের চরিত্র: ইন্দ্ৰনাথ, এলা, অতীন্দ্র।
-‘ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র: বিমলা, নিখিলেশ, সন্দীপ, অমূল্য।
প্যারীচাঁদ মিত্র কর্তৃক রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৭)।
-উপন্যাসটি ইংরেজিতে Spoiled Child নামে অনূদিত।
-এটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস, যা তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর নামে ১৮৫৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘মাসিক পত্রিকায় লিখতেন।
-এটি কথ্য ভাষায় লিখিত, যা ‘আলালি ভাষা' নামে পরিচিত।
ধনাঢ্য বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে মিশে এবং শিক্ষার প্রতি পিতার অবহেলার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। পিতার মৃত্যুর পর সব সম্পত্তির বিনাশ সাধন করার পর তার বোধোদয় ঘটে। ফলে হৃদয়-মন পরিবর্তিত হওয়ায় সে সৎ ও ধর্মনিষ্ঠ হয়।
চরিত্র: মতিলাল, মোকাজান মিঞা বা ঠক চাচা, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর। উল্লেখ্য, প্রশ্নের অপশনে প্রকাশকাল ১৮৫৭ না থাকলে ১৮৫৮ সাল উত্তর দিতে হবে।
তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ: ‘মদ খাওয়ার কী দায়, জাত থাকার কি উপায়' (১৮৫৯), ‘রামারঞ্জিকা' (১৮৬০), ‘গীতাঙ্কুর’ (১৮৬১), ‘যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫), 'অভেদী' (১৮৭১), ‘ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত’ (১৮৭৮), ‘আধ্যাত্মিকা’ (১৮৮০), ‘বামাতোষিণী’ (১৮৮১), ‘কৃষিপাঠ’ (১৮৬১),The Zamindar and Royats.
বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ অন্যান্য পণ্ডিতগণ এবং রাজা রামমোহন রায়ের বাংলা গদ্য রচনার প্রয়াস প্রশংসনীয়, কিন্তু তা ছিল অপূর্ণ।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন, বাংলা গদ্যপ্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি তাঁর গদ্যে ‘উচ্চবচ ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দস্রোত সৃষ্টি করেন এবং বাংলা গদ্যের শ্বাসপর্ব ও অর্থপূর্ব অনুসারে ভাগ করে, সেখানে যতি চিহ্ন প্রয়োগ করে বাংলা গদ্যেকে তিনি সাহিত্যগুণ সম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই তাঁকে প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
জব সলুশন