‘দুরপনেয়’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো-
'দূরপনেয়' শব্দটি একটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
- নিয়ম: অ বা আ-ভিন্ন অন্য স্বরবর্ণের (যেমন- ই, উ) পর বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং এরপর স্বরবর্ণ, বর্গের ৩য়, ৪র্থ, ৫ম বর্ণ কিংবা য, র, ল, ব, হ থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়। সেই 'র' পরবর্তী স্বরবর্ণের সাথে যুক্ত হয় বা ব্যঞ্জনবর্ণের মাথায় রেফ হয়ে বসে।
- এই শব্দটিতে: দুঃ + অপনেয় = দূরপনেয়। এখানে 'দুঃ' এর বিসর্গের স্থানে 'র' হয়েছে এবং তা পরবর্তী 'অপনেয়' শব্দের 'অ'-এর সাথে মিলে পূর্ণ 'র' (র্+অ = র) গঠন করেছে।
- অর্থ: যা সহজে দূর করা যায় না বা মোচন করা যায় না।
• একই নিয়মের উদাহরণ:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা
- নিঃ + আকার = নিরাকার
Related Questions
দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা। ‘দুরাবস্থা’ ভুল বানান।
বিসর্গ সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, 'অ' কিংবা 'আ' ভিন্ন অন্য স্বরবর্ণের পরে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং তার পরে স্বরবর্ণ থাকলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে 'র' হয়। এই 'র' পরবর্তী স্বরবর্ণের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন: দুঃ + ঊহ = দুরূহ (প্রশ্নের অপশনে 'উহ্' দেওয়া থাকলেও ব্যাকরণগতভাবে সঠিক বানান 'ঊহ')।
এই নিয়মের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:
- দুঃ + উক্তি = দুরুক্তি
- দুঃ + আশা = দুরাশা
- নিঃ + অবধি = নিরবধি।
দুঃ + যোগ = দুর্যোগ। বিসর্গ রেফ হয়েছে।
'দুর্বার' শব্দটি একটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
- নিয়ম: অ বা আ-ভিন্ন স্বরবর্ণের (যেমন- ই, উ) পর বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং এর পর বর্গের ৩য়, ৪র্থ, ৫ম বর্ণ অথবা য, র, ল, ব, হ থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়। এটি পরবর্তী ব্যঞ্জনবর্ণের ওপর রেফ (র্) হিসেবে যুক্ত হয়।
- এই শব্দটিতে: দুঃ + বার = দুর্বার। এখানে 'দুঃ' এর বিসর্গ (ঃ) এবং 'বার' এর 'ব' (প-বর্গের ৩য় বর্ণ) যুক্ত হয়ে বিসর্গটি রেফ (র্)-এ রূপান্তরিত হয়েছে এবং 'ব'-এর ওপর বসেছে।
- অর্থ: যাকে নিবারণ বা বাধা দেওয়া কঠিন, অদম্য বা অপ্রতিরোধ্য।
• উদাহরণ:
- দুঃ + বল = দুর্বল
- দুঃ + লভ = দুর্লভ
জব সলুশন